ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আর নতুন কোনো কাজ নেবেন না এমন ঘোষণায় তৈরি হয়েছে জল্পনা ও বিভ্রান্তি। প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন ছবির গান মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি, যা মুহূর্তেই ভক্তদের মধ্যে আলোড়ন তোলে।
অরিজিতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখা হয়, “প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই এটি বন্ধ করছি।” হঠাৎ এই ঘোষণায় অনেকেই ধরে নেন, তিনি বুঝি সংগীতজগত থেকেই সরে যাচ্ছেন। তবে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন অরিজিৎ নিজেই। তিনি জানান, সংগীতচর্চা বন্ধ করছেন না, শুধু প্লেব্যাক থেকে আপাতত নতুন কাজ নেওয়া হবে না।
পরে এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে অরিজিৎ বলেন, হাতে থাকা কাজগুলো শেষ করবেন। তাঁর ভাষায়, “কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। সেগুলো শেষ করব। অর্থাৎ এই বছর কিছু রিলিজ পাবেন।” তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ফেসবুক পোস্টে অরিজিৎ লেখেন, “হ্যালো, সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই আমি এটি বন্ধ করছি। গোটা যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ঈশ্বরের অসীম কৃপা ছিল আমার ওপর। আমি ভালো সংগীতের একজন অনুরাগী। ভবিষ্যতে আরও শিখব, একজন সামান্য শিল্পী হিসেবেই সংগীতসাধনা চালিয়ে যাব।”
এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া তীব্র। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেউ আবেগঘন বার্তায় নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। এক অনুরাগী লিখেছেন, “টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসরের সময় যেমন লেগেছিল, ঠিক তেমনই অনুভব করছি।”
প্রেমের গান থেকে মনখারাপের সুর, নাচের গান থেকে ভক্তিগীতি সব ঘরানাতেই অরিজিতের সাবলীল উপস্থিতি তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। তাই আচমকা প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় অনুরাগীদের উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছিল অরিজিতের সংগীতযাত্রা। আজ তাঁর শ্রোতা বিশ্বজুড়ে। ২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েও সেরা পাঁচে জায়গা না পেলেও থেমে যাননি তিনি। পরে আরেকটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজরে আসেন।
২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হলেও ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’-এর ‘তুম হি হো’ তাঁকে পৌঁছে দেয় তারকাখ্যাতির শীর্ষে। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য সম্মাননা জিতেছেন তিনি। কনসার্ট পারফরম্যান্সের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া গায়কদের একজন হিসেবেও পরিচিত অরিজিৎ।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত কি স্থায়ী, নাকি নতুন কোনো সৃজনশীল অধ্যায়ের সূচনা? আপাতত অরিজিতের কথায় একটি বিষয় পরিষ্কার, গান থামছে না শুধু বদলাচ্ছে পথ।