অক্ষয় কুমার ও প্রিয়দর্শন বলিউড কমেডির অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় এক জুটি। ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মাসালা’, ‘ভাগম ভাগ’ কিংবা ‘ভুলভুলাইয়া’-র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই জুটি প্রায় দেড় দশক পর ফের একসঙ্গে আসেন ‘ভূত বাংলা’ সিনেমাটি নিয়ে। প্রেক্ষাগৃহে সাফল্য পাওয়ার পর সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সেও মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ওটিটিতে বাংলাদেশে ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

গত ১৭ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ১২০ কোটি রুপি বাজেটের ভূত বাংলা। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৪০ কোটি রুপিরও বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা) ব্যবসা করে বক্স অফিসে সেমি-হিটের তকমা অর্জন করে। এরপর গত ১২ জুন নেটফ্লিক্সে আসার পর দীর্ঘ এক মাস কেটে গেলেও এটি বাংলাদেশে সিনেমা তালিকার তিন নম্বরে জায়গা ধরে রেখেছে।

সিনেমাটির গল্প মঙ্গলপুর গ্রাম ও সেখানে প্রচলিত ‘বধুসুর’ নামের এক রহস্যময় অশুভ শক্তির গল্প ঘিরে, যা বিয়ের রাতেই নববধুদের তুলে নিয়ে যায়। এই প্রাসাদেই বোন মীরার (মিথিলা পালকার) বিয়ের আয়োজন করতে লন্ডনে থাকা অর্জুন (অক্ষয় কুমার) দেশে ফিরলে শুরু হয় নানা ভৌতিক ও অলৌকিক কাণ্ডকারখানা।

অক্ষয় কুমারের চেনা হাসির ভঙ্গি এবং রাজপাল যাদব ও পরেশ রাওয়ালের রসায়ন প্রথমভাগে দারুণ বিনোদন দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে গল্পের গতি অনেকটাই থমকে যায়। দীর্ঘ অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যা, অতিমাত্রায় ফ্ল্যাশব্যাক এবং অতিরঞ্জিত সিজিআই (CGI) সিনেমাটির আকর্ষণ নষ্ট করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া টাবু, ওয়ামিকা গাব্বি কিংবা যীশু সেনগুপ্তের মতো তারকাদের চরিত্রের সঠিক ব্যবহার না হওয়া এবং অতি দৈর্ঘ্যের কারণে এটি ‘ভুলভুলাইয়া’র মতো উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।

সব মিলিয়ে প্রিয়দর্শন-অক্ষয় জুটির নস্টালজিয়া আর হালকা কমেডির স্বাদ থাকলেও দুর্বল চিত্রনাট্য ও ধীরগতির কারণে হরর-কমেডি ঘরানায় সিনেমাটি পুরোপুরি নতুন কোনো চমক দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।