সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার (৩০)। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। মেয়ের সঙ্গে একটি হাসিমুখের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’
লিভার সংক্রান্ত মারাত্মক জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কায়সার হামিদ জানান, চেন্নাইয়ে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি। মৃত্যুকালে তিনি মা-বাবা ও দুই ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন কারিনা। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর তাঁকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু লিভারের চিকিৎসার আগেই ফুসফুসের জটিলতায় মারা যান এই তরুণ তারকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের স্মৃতিচারণ করে কায়সার হামিদ আরও লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে তরুণদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন কারিনা। এরপর ওটিটি ও নাটকের জগতেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও প্রশংসিত হন তিনি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মেগা হিট সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ ও সিনেমা ‘৩৬-২৪-৩৬’-এ তাঁর কাজ দর্শক মনে দাগ কেটেছিল। কারিনার এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করছেন।