ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটাতে সিঙ্গাপুর পুলিশ সম্প্রতি আদালতে একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে একটি ইয়ট পার্টিতে অংশ নিয়ে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জুবিনের পরিবার থেকে শুরুতে খুনের অভিযোগ তোলা হলেও সিঙ্গাপুরের একটি আদালতের শুনানিতে জানানো হয় যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি এবং ময়নাতদন্ত অনুযায়ী পানিতে ডুবে যাওয়াকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে জুবিন গার্গের মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তার শারীরিক অসাবধানতা এবং নিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার সময় ৫২ বছর বয়সী এই শিল্পী অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন এবং বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়টের দিকে সাঁতার কেটে ফিরে আসার সময় হঠাৎ তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন এবং দ্রুত উদ্ধার করা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শরীরের কিছু অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও পুলিশ জানিয়েছে সেগুলো উদ্ধারকাজের সময় তৈরি হয়েছিল।

এছাড়া জুবিন গার্গের শরীরে থাকা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কথাও আদালতের শুনানিতে উঠে আসে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং ২০২৪ সালেও তার মৃগীজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যদিও তিনি নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতেন, তবে দুর্ঘটনার দিন তিনি সেই ওষুধগুলো সেবন করেছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুর পুলিশের এই নতুন তথ্য জুবিনের মৃত্যু নিয়ে আসামসহ ভারতজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার একটি আইনগত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।