চেনা ফ্রেমে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘চাঁদ কে পার চলো’ এর সেই শান্ত, সহজ মুখটাই ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। সেই মেয়েটিই আজ বলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী, ইয়ামি গৌতম। টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনচিত্রের পরিচিত পরিসর পেরিয়ে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক হয় কন্নড় ছবির মাধ্যমে। এরপর ২০১২ সালে সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর আগমন ঘটে। ছবির সাফল্য তাঁকে রাতারাতি পরিচিত করে দেয়, তবে এখানেই শুরু হয় তাঁর আরেক রকম সংগ্রাম।

প্রথম বড় সাফল্যের পর ইয়ামি নিজেই স্বীকার করেছেন এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাওয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছিল নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। বুঝতে পারছিলাম না, কোন পথে যাব।’ সফলতার পরপরই কাজের ঝাঁপটা ও প্রত্যাশার চাপে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। তবে নিজের শহর ছেড়ে মুম্বাই আসার কারণ এবং অভিনয়ের উদ্দেশ্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে সেই থেমে যাওয়ার মধ্যেই তৈরি হন পরিণত ইয়ামি।

হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুরে জন্ম ইয়ামির। তিনি নিজেই বলেছেন, স্কুলে থাকার সময় মঞ্চে উঠতে ভয় পেতেন এবং অনেক মানুষের সামনে দাঁড়ালেই ঘাবড়ে যেতেন। সময়ের সঙ্গে সেই ভয় কাটতে শুরু করে। সিনেমা দেখার পর প্রিয় দৃশ্যগুলো নীরবে অভিনয় করার অভ্যাস থেকেই হয়তো ধীরে ধীরে তৈরি হয় ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী ইয়ামি গৌতম।

‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘বালা’, ‘থার্সডে’ এই ছবিগুলোর মাধ্যমে ইয়ামি নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশপ্রেমের আবেগ, সামাজিক বক্তব্য কিংবা মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা সব জায়গাতেই তিনি ভরসাযোগ্য। হিন্দির পাশাপাশি তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, কন্নড় ও পাঞ্জাবি ভাষার ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। প্রচারবিমুখ এই অভিনেত্রী মনে করেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষা তাঁকে মাটিতে পা রাখতে শিখিয়েছে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই নিজেকে তুলে ধরা উচিত।

২০২১ সালের জুনে ব্যক্তিগত আয়োজনে পরিচালক আদিত্য ধরকে বিয়ে করেন ইয়ামি। তাঁদের পরিচয় ও সম্পর্কের শুরু হয় ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এর সেটে। তাঁর সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ এ বন্দুক হাতে এনআইএ এজেন্টের চরিত্র এবং সুপর্ণ ভার্মার ‘হক’ ছবিতে সাহো বানু বেগমের ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়। মঞ্চভীতি, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং সাফল্যের পরের বিভ্রান্তি সব পেরিয়ে আজকের ইয়ামি গৌতম স্থির, সংযত ও নিজের জায়গায় আত্মবিশ্বাসী।