ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জানান, জীবনের প্রতিটি দীর্ঘ যাত্রায় এমন একটি মুহূর্ত আসে, যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় কেন সে কখনো হাল ছাড়েনি। তাঁর ভাষায়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সেই বিশেষ মুহূর্ত, যা তিনি সারা জীবন লালন করে রাখবেন। একই অনুষ্ঠানে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কারও জিতেছে, ফলে ছবির পুরো দলের জন্য এটি দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

ইয়ামি মনে করেন, এই স্বীকৃতি দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং অভিনয়ের প্রতি অটল বিশ্বাসের ফল। ৩৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, গত ১৪ বছর ধরে তিনি শুধুমাত্র নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন এবং অভিনয়কে নিজের হয়ে কথা বলতে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সম্মান কোনো গন্তব্য নয়, বরং আরও বড় দায়িত্বের সূচনা। ভবিষ্যতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও অর্থবহ গল্পের অংশ হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র নির্মাতা মুকেশ গৌতমের মেয়ে ইয়ামি গৌতমের বেড়ে ওঠা ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে। গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের বাইরে থেকেই তিনি নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যস্ত শুটিং সূচির মধ্যেও আজও তিনি পারিবারিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চর্চাকে গুরুত্ব দেন। হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইয়ামি পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান।

২০০৮ সালে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘চাঁদ কে পার চলো’র মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। যদিও তাঁর বাবা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন, তবুও নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছে। কন্নড় সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর হিন্দি চলচ্চিত্র ‘ভিকি ডোনার’-এ অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। সুজিত সরকারের পরিচালনায় নির্মিত ওই ছবিতে অসীমা রায়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। এরপর ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে ‘কাবিল’, ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘বালা’, ‘আ থার্সডে’, ‘লস্ট’, ‘দশভি’, ‘হক’ এবং ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে বহুমাত্রিক অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন ইয়ামি। শুধু বড় পর্দা নয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তাঁর উপস্থিতি সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, কাজই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় এবং সেই কাজের প্রতি সততা বজায় রাখাই একজন শিল্পীর মূল দায়িত্ব।

ইয়ামির মতে, কোনো প্রকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে চিত্রনাট্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পাঠেই গল্পটি তাঁকে স্পর্শ করতে পারলে তিনি সেটির প্রতি আগ্রহী হন। এরপর চরিত্রের গভীরতা এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নেন। বাস্তবধর্মী গল্পের প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অনেক সময় অবমূল্যায়নের মুখোমুখি হলেও সেটিকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং নিজের কাজের মাধ্যমেই জবাব দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও ইয়ামি গৌতম সফল ও পরিপূর্ণ। ২০২১ সালে নির্মাতা ও পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ২০২৪ সালে তাঁদের পরিবারে আসে পুত্রসন্তান বেদাভিদ। অভিনয়জীবনের ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে চলেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং পরিবারই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস। বলিউডের আলোঝলমলে জীবনযাত্রার মাঝেও তিনি এখনো সাদামাটা জীবনধারাকে প্রাধান্য দেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।