হলিউড প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রতিভায় মুখরিত হলেও খুব কম শিল্পীই নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে অনন্য এক পথ তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের ম্যাগনাম ওপাস (শ্রেষ্ঠ কীর্তি) ‘দ্য ওডিসি’ (The Odyssey)-তে 'ইউরিলোকাস' চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান অভিনেতা হিমেশ প্যাটেল। টেলিভিশন সোপ অপেরা থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রে নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা এই গুণী অভিনেতার গল্পটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।
ইংল্যান্ডের কেমব্রিজশায়ারে এক গুজরাটি পরিবারে জন্ম নেওয়া হিমেশ প্যাটেলের আলোয় আসার গল্পটি এক আকস্মিক সুযোগের মতো। নিজের পড়াশোনা সামলানোর পাশাপাশি তিনি তাঁর বাবা-মায়ের খবরের কাগজের দোকানে সাহায্য করতেন। এমনকি অভিনয়ে নিজের প্রথম বড় সুযোগ পাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত খবরের কাগজ বিলি করার কাজ চালিয়ে গেছেন। এর মাঝেই তিনি ব্রিটিশদের আইকনিক সোপ অপেরা ‘ইস্টএন্ডার্স’ (EastEnders)-এর জন্য অডিশন দেন। সেখানে ‘তামওয়ার মাসুদ’ চরিত্রটি দিয়ে ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন তিনি, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।
টেলিভিশনের এই দীর্ঘ পথচলার পর ২০১৯ সালে ড্যানি বয়েলের মিউজিক্যাল কমেডি ‘ইয়েস্টারডে’ (Yesterday)-তে ‘জ্যাক মালিক’ চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন হিমেশ। এরপর থেকেই তিনি হলিউডের বড় বড় প্রজেক্টের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। ‘ডোন্ট লুক আপ’ (Don't Look Up)-এর মতো সফল কমেডি এবং ‘গ্রিডি পিপল’ (Greedy People)-এর মতো ড্রামায় নিজের অসাধারণ অভিনয়শৈলী প্রদর্শন করেন তিনি। শুধু বড় পর্দাই নয়, মিনি সিরিজ ‘স্টেশন ইলেভেন’ (Station Eleven)-এ তাঁর জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রায়ন সমালোচকদের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা কুড়ায়।
হিমেশ প্যাটেলের ক্যারিয়ারের গ্রাফ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় যখন তিনি হলিউডের মাস্টারমাইন্ড ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার নোলানের নজরে আসেন। নোলানের সায়েন্স ফিকশন মহাকাব্য ‘টেনেট’ (Tenet)-এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর, এবার নোলানের নতুন ফ্যান্টাসি ড্রামা
খবরের কাগজ বিলি করা এক সাধারণ কিশোর থেকে শুরু করে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, মেরিল স্ট্রিপ কিংবা ক্রিস্টোফার নোলানের মতো কিংবদন্তিদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা হিমেশ প্যাটেলের এই রূপালি যাত্রা বৈশ্বিক সিনেমার মঞ্চে যেকোনো এশীয় অভিনেতার জন্য এক বিরাট মাইলফলক।