জার্মান ভাষার স্পাই-থ্রিলার সিরিজ ‘আনফ্যামিলিয়ার’ চলতি বছরের শুরুতে নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গুপ্তচরবৃত্তির চেনা ধারার বাইরে গিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক, গোপন অতীত এবং পারিবারিক সংকটের টানটান গল্প ফুটিয়ে তোলায় সিরিজটি মন জয় করেছে আন্তর্জাতিক দর্শকদের। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নেটফ্লিক্সে ৩ কোটি ১৬ লাখ বার দেখা হয়েছে ছয় পর্বের এই সিরিজটি।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক দুই জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির এজেন্ট সাইমন ও মেরেট শ্যাফার। বার্লিনে পরিচয় গোপন করে একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং কিশোরী মেয়ে নিনাকে নিয়ে তাদের স্বাভাবিক সংসার চলছিল। তবে ১৬ বছর আগের এক বেলারুশ অভিযানের পুরনো শত্রু রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফ কোলিভ পুনরায় আবির্ভূত হলে বদলে যায় দৃশ্যপট। ঘরের বাইরের শত্রুর পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর বছরের পর বছর জমে থাকা অবিশ্বাস ও গোপন তথ্যের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। প্রধান দুই চরিত্র মেরেট ও সাইমনের ভূমিকা দুর্দান্ত অভিনয় উপহার দিয়েছেন সুসানে ভল্ফ ও ফেলিক্স ক্রেমার।
পল কোটসের রচনা এবং লেন্নার্ট রুফ ও ফিলিপ লাইনেমানের পরিচালনায় নির্মিত সিরিজটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৪৯ লাখ ভিউ নিয়ে নেটফ্লিক্সের অ-ইংরেজি তালিকার শীর্ষে উঠে আসে, যা দ্বিতীয় সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪ লাখে। ৩৫টিরও বেশি দেশে শীর্ষস্থান দখল করার পাশাপাশি রটেন টমেটোজেও ৭৮ শতাংশ ইতিবাচক রিভিউ পেয়েছে সিরিজটি। কেবল ধুন্ধুমার অ্যাকশন নয়, বরং জার্মানির নিজস্ব গোয়েন্দা জগত এবং অ্যাকশন ও পারিবারিক আবেগের চমৎকার ভারসাম্যের কারণেই ‘আনফ্যামিলিয়ার’ বিশ্বজুড়ে এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজে পরিণত হয়েছে।