নব্বই দশকের টেলিভিশন পর্দায় দর্শকপ্রিয় জুটি তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত বাস্তব জীবনেও সুখী দাম্পত্যের দৃষ্টান্ত। এখন আর আগের মতো নিয়মিত শোবিজে দেখা না গেলেও এই জুটিকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ কমেনি একটুও।
১৯৯৯ সালের ২৩ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্টার নাইট’-এ অতিথি হয়ে এসে বিয়ের দিনের একটি মজার ও স্মরণীয় ঘটনার কথা শোনান তৌকীর।
সেই দিনের কথা মনে করে তিনি জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল উপস্থিত মানুষের ঢল। অতিরিক্ত ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় এক পর্যায়ে বর-কনেকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিয়ের আসর থেকেই কার্যত ‘পালিয়ে’ যেতে হয় তাদের।
তৌকীর আহমেদ বলেন, “আমাদের একসময় বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। এত মানুষ এসেছিল সবাই ভদ্রই ছিলেন, কিন্তু জনতার চাপ সামলানো যাচ্ছিল না। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বর ও কনেকে সরিয়ে নেওয়ার। পেছনের দরজা দিয়ে বের করে আমাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।”
তৌকীর ও বিপাশার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জ মিলনায়তনে। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় চার হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত হন ছয় থেকে সাত হাজার মানুষ। এত মানুষের ভিড়েই তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
এ প্রসঙ্গে তৌকীর আরও বলেন, “আসলে কেউ খেতে যাননি। সবাই শুধু একনজর দেখতে বা ভালোবেসে এসেছিলেন। আফজাল হোসেন ভাইসহ অনেকেই পরে বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খেয়েছেন। এমন অনেক মজার স্মৃতি আছে, যেগুলো ভাবলে এখনও হাসি পায়।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শোবিজে অনিয়মিত এই তারকা দম্পতি। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তাঁরা কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় সর্বশেষ ২০২১ সালে মুক্তি পায় চলচ্চিত্র ‘স্ফুলিঙ্গ’। অন্যদিকে বিপাশা হায়াত বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিল্পকর্মভিত্তিক সংগঠন ‘দ্য আর্ট ডোম’-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে সৃজনশীল কাজে সক্রিয় রয়েছেন।