নতুন বছরে দুটি নতুন সিনেমায় দেখা যাবে তমা মির্জাকে। এর একটি পরিচালনা করছেন গোলাম সোহরাব দোদুল, ছবির নাম ‘জলযুদ্ধ’। অন্য ছবিটির পরিচালক হাসান মোরশেদ। তবে এখনই ছবিটির নাম প্রকাশে আগ্রহী নন নির্মাতা। পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, একটি ছবিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, আরেকটিতে মৌখিক সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে।

দোদুল পরিচালিত ‘জলযুদ্ধ’-এ তমার বিপরীতে অভিনয় করবেন মোশাররফ করিম। অন্যদিকে হাসান মোরশেদের ছবিতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে থাকছেন শরীফুল রাজ।

এই দুটি প্রজেক্ট নিয়ে আপাতত বিস্তারিত কিছু বলতে চান না তমা মির্জা। বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘দুটি ছবির গল্পই শুনেছি। দুটিই খুব শক্তিশালী। এমন গল্প আর পরিচালকের ভাবনার সঙ্গে যে কেউ কাজ করতে চাইবে। এর বেশি এখন কিছু বলতে পারছি না। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে সবই জানা যাবে।’

জানা গেছে, হাসান মোরশেদের ছবির শুটিং এ মাসেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তমা ও শরীফুল রাজের অংশের শুটিং হবে পরে। অন্যদিকে দোদুল তাঁর ছবির শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিল্পীদের বড় অংশ চূড়ান্ত হয়েছে, টিম ও কলাকুশলীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

‘দুই বন্ধু’র অপেক্ষায়

ওপার বাংলার নির্মাতা অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ‘দুই বন্ধু’ নামের একটি ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় টানা নয় দিনের শুটিং শেষ হলেও সিরিজটি এখনো মুক্তি পায়নি। মুক্তির অপেক্ষায় আছেন তমা নিজেও।

অঞ্জন দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর আগে কলকাতার কোনো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করিনি। শুরুতে একটু নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা দারুণ। তিনি শুধু ভালো পরিচালকই নন, অসাধারণ মানুষও। ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করেছেন।’
কলকাতার কাজের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট তমা। তাঁর ভাষ্য, ‘এক শিফটে কাজ হয়েছে, টিম ছিল খুব গোছানো। সবাই জানত কে কী করবে। অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি।’

বদলে যাওয়া তমা

কাজের বাইরে সময় পেলেই পরিবারকে সময় দেন তমা মির্জা। গান শোনা, বই পড়া, সিনেমা দেখা আর রান্না করতে ভালোবাসেন তিনি। রান্নাকে তিনি শিল্পের মতোই দেখেন। হাসতে হাসতে বলেন, ‘গরু, মুরগি, হাঁস, খাসি সব মাংসের কারি ভালো করি। রান্না করে খাওয়াতে আনন্দ পাই।’

একাকিত্বও উপভোগ করেন তমা। তাঁর কথায়, ‘একাকিত্ব আমাকে নিজের ভেতরে তাকাতে শেখায়। এক কাপ চা নিয়ে বসে ভাবি, কোথায় ভুল করেছি, কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করা যায়।’

২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তমা মির্জা। তবে দীর্ঘদিন তিনি গতানুগতিক নায়িকা চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। রায়হান রাফীর ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ওয়েব ফিল্মে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তুলে ধরেন। এরপর ‘সাত নম্বর ফ্লোর’, ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ এবং সর্বশেষ শিহাব শাহীনের ‘দাগি’ প্রতিটি কাজেই প্রশংসিত হয়েছে তাঁর অভিনয়।

নতুন দুই পরিচালক, নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন তমা মির্জা। সব মিলিয়ে তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বছর।