হাস্যরসের জগতে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের জনপ্রিয়তা সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও অমলিন। তেমনই একটি নাম আমেরিকান স্ল্যাপস্টিক কমেডি দল ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’। অদ্ভুত শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, চড়-থাপ্পড়, বিচিত্র অভিব্যক্তি আর হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে কয়েক দশক ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে দলটি। ১৯২২ সালে কমেডিয়ান টেড হিলির হাত ধরে ‘টেড হিলি অ্যান্ড হিজ স্টুজেস’ নামে দলটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৩০ সালে কলম্বিয়া পিকচার্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা স্বতন্ত্র কমেডি শর্ট ফিল্ম নির্মাণ শুরু করে।
দলটির সবচেয়ে জনপ্রিয় লাইনআপে ছিলেন মো হাওয়ার্ড, ল্যারি ফাইন ও কার্লি হাওয়ার্ড। মো ছিলেন দলের কড়া মেজাজের সদস্য, যিনি সঙ্গীদের সঙ্গে মজার মারপিটে জড়িয়ে পড়তেন। ল্যারির এলোমেলো চুল ও বোকাসোকা অভিব্যক্তি দর্শকদের হাসাত। অন্যদিকে কার্লি তাঁর ন্যাড়া মাথা, অদ্ভুত শব্দ ও শারীরিক কৌতুকের জন্য বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সময়ের সঙ্গে শেম্প হাওয়ার্ড, জো বিসার ও কার্লি-জো ডেরিটও দলের সদস্য হিসেবে যুক্ত হন।
১৯৩০ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত কলম্বিয়া পিকচার্সের ব্যানারে প্রায় ১৯০টি শর্ট ফিল্ম তৈরি করে ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’। তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ডিসঅর্ডার ইন দ্য কোর্ট’ (১৯৩৬), ‘ইউ ন্যাজটি স্পাই!’ (১৯৪০) এবং ‘মেন ইন ব্ল্যাক’ (১৯৩৪)। শেষের ছবিটি সেরা শর্ট সাবজেক্ট (কমেডি) বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে টেলিভিশনে তাদের পুরোনো কাজ প্রচার শুরু হলে নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দলটি।
বাংলাদেশেও দলটির কমেডির সঙ্গে অনেক দর্শকের পরিচয় তৈরি হয়েছিল বিটিভি ও ক্যাবল টেলিভিশনের মাধ্যমে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তাদের শারীরিক কৌতুক, মজার মারপিট এবং অদ্ভুত অভিব্যক্তি দর্শকদের বিনোদিত করত। ভাষা না বুঝলেও তাদের হাস্যরস উপভোগ করা যেত সহজেই। এভাবেই ‘দ্য থ্রি স্টুজেস’ শুধু আমেরিকার কমেডি ইতিহাসেই নয়, বাংলাদেশের অনেক দর্শকের স্মৃতিতেও জায়গা করে নিয়েছে।