হলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় সেই শিশুশিল্পী ডেভেই চেজ আর নেই। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরই নব্বই ও দুই হাজার দশকের শুরুর দিকের দর্শকদের মাঝে নস্টালজিয়ার পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রুপালি পর্দায় ভয়ংকর হরর চরিত্র ‘সামারা মরগ্যান’ থেকে শুরু করে ডিজনির অ্যানিমেশনের মিষ্টি চরিত্র ‘লিলো’ দুই ভিন্ন জগতেই তিনি দর্শকদের মনে এক অবিস্মরণীয় ছাপ রেখে গেছেন।

ডেভেই চেজের ম্যানেজার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু জন রায়ান জুনিয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী। জানা গেছে, মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে সেপসিস দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তার শারীরিক অবস্থার খুব দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

লাস ভেগাসে বেড়ে ওঠা ডেভেই খুব ছোটবেলা থেকেই রূপালি জগতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। থিয়েটার এবং ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসেবে তার ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে টেলিভিশন ও মূল ধারার সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। চমৎকার অভিনয়শৈলী দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হলিউডের চেনা মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

২০০১ সালে ‘ডনি ডার্কো’ সিনেমায় সামান্থা ডার্কোর চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম সবার নজর কাড়েন ডেভেই। তবে তাকে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় ২০০২ সালের বিখ্যাত হরর সিনেমা ‘দ্য রিং’। সেখানে কুয়া থেকে উঠে আসা সেই ভয়ংকর চরিত্র ‘সামারা মরগ্যান’ এর রূপদান করে আধুনিক হরর সিনেমার ইতিহাসে নিজের নাম চিরস্মরণীয় করে রাখেন। ঠিক একই সময়ে ডিজনির অ্যানিমেশন সিনেমা ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ এ লিলো চরিত্রের কণ্ঠ দিয়ে শিশু কিশোরদের কাছেও ভীষণ প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। একদিকে চরম ভয়, অন্যদিকে অসম্ভব মায়া দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রে সমান দক্ষতা দেখিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই তরুণী।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন সিরিজ এবং অ্যানিমেশন প্রজেক্টে তাকে কাজ করতে দেখা গেছে। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। লাইমলাইটের আড়ালে চলে গেলেও তার অভিনীত চরিত্রগুলো আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন।

ব্যক্তিজীবনে ডেভেই ছিলেন বেশ অন্তর্মুখী স্বভাবের। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, তিনি গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কোলাহল এড়িয়ে একদম শান্ত ও সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করতেন। দারুণ প্রাণীপ্রেমী হিসেবেও পরিচিতি ছিল তার, বিশেষ করে বিড়াল উদ্ধার ও তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।