বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের অলিগলি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল উন্মাদনা। প্রিয় দলের জয়-পরাজয় ঘিরে চলে তর্ক-বিতর্ক, আনন্দ-উদ্‌যাপন এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ। এই আবহেই ফুটবল নিয়ে নিজের অনুভূতি, প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় এবং বাংলাদেশের ফুটবলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল।

সুনেরাহর কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগেরও একটি জায়গা। বিশ্বকাপকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, সেটি তিনি ভীষণ উপভোগ করেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, খেলাকে কেন্দ্র করে মতের অমিল থাকলেও সেটি কখনো সম্পর্কের ক্ষতির কারণ হওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, মানুষ নিজের প্রিয় দলকে সমর্থন করবে, আলোচনা করবে, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আবেগ যেন কখনো ঝগড়া-বিবাদ বা তিক্ততায় রূপ না নেয়। তাঁর মতে, খেলাকে সুস্থ বিনোদন হিসেবেই উপভোগ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক সুনেরাহ। পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের প্রভাবে দলটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। তবে মজার বিষয় হলো, তাঁর প্রিয় ফুটবলার আর্জেন্টিনার কেউ নন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভক্ত। তবুও ফুটবল উপভোগের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন না।

সুনেরাহর ভাষায়, সুন্দর ফুটবলের কোনো নির্দিষ্ট দল নেই। যে দল ভালো খেলে, তাদের খেলা দেখতেও তিনি আনন্দ পান। কাজের ব্যস্ততার কারণে সব ম্যাচ দেখা সম্ভব না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দেখার চেষ্টা করেন তিনি।

ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু দর্শক হিসেবেই নয়। ছোটবেলায় স্কুলজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। মাঠে দৌড়ঝাঁপ আর খেলাধুলার সেই স্মৃতিগুলো এখনো তাঁর মনে জ্বলজ্বল করে। তবে একবার খেলতে গিয়ে কোমরে আঘাত পাওয়ার পর ধীরে ধীরে মাঠে নামা কমে যায়। বর্তমানে আর ফুটবল খেলেন না, কিন্তু খেলাটির প্রতি ভালোবাসা অটুট রয়েছে।

শুধু ফুটবল নয়, একসময় ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেনিস খেলতেও আগ্রহ ছিল তাঁর। এখন অভিনয় ও অন্যান্য পেশাগত ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ না হলেও নিজের ফিটনেসের বিষয়ে সচেতন সুনেরাহ। সময় পেলেই সাঁতার কাটেন, জিমে যান এবং শরীরচর্চা করেন। তাঁর মতে, সুস্থ শরীর সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিল্পীদের জন্য।

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়েও আশাবাদী এই অভিনেত্রী। তাঁর বিশ্বাস, দেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগের কোনো ঘাটতি নেই। এখন প্রয়োজন সেই আবেগকে মাঠের সাফল্যে রূপান্তর করা। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা বিকাশ এবং খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

সুনেরাহ আশা করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে এবং বড় আসরগুলোতে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আর বিশ্বকাপ উন্মাদনার মাঝেও তিনি সবাইকে একটি কথাই মনে করিয়ে দিতে চান, খেলার আনন্দ যেন কখনো সম্পর্কের চেয়ে বড় হয়ে না ওঠে।