আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক অবিনশ্বর নক্ষত্র, ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহর জন্মবার্ষিকী। নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আকাশে ধুমকেতুর মতো তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল। মাত্র তিন থেকে চার বছরের সংক্ষিপ্ত অভিনয়জীবনে উপহার দিয়েছেন ২৭টি কালজয়ী সিনেমা, যার প্রায় প্রতিটিই ব্যবসায়িক ও শৈল্পিক সাফল্য লাভ করেছিল। আজ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর প্রতি দর্শক ও তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসা এতটুকু ম্লান হয়নি, বরং সময়ের সাথে তা আরও গাঢ় হয়েছে।

সালমান শাহ শুধু একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা এক 'ফ্যাশন আইকন'। মাথায় রঙিন ব্যান্ডানা, ওয়েস্টার্ন পোশাক, সানগ্লাস, স্টাইলিশ হেয়ারকাট কিংবা স্পোর্টস বাইক পর্দায় ও পর্দার বাইরে তাঁর স্টাইল তৎকালীন সময়ের তরুণদের তোলপাড় করে দিয়েছিল। তৎকালীন বোম্বাই (বর্তমানে মুম্বাই) বা হলিউডের ফ্যাশনধারাকে নিজস্ব স্বকীয়তায় ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। এমনকি আজ তিন দশক পর এসেও বর্তমান প্রজন্মের তারকা ও ফ্যাশন প্রেমীদের কাছে তাঁর পোশাক ও চলনবলন অনুকরণের বিষয় হয়ে আছে।

ফ্যাশন সেন্সের পাশাপাশি তাঁর অভিনয়শৈলীও ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে শুরু করে ‘তুমি আমার’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘এই ঘর এই সংসার’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো চলচ্চিত্রে রোমান্টিক কিংবা পারিবারিক সব রূপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর সংবেদনশীল অভিনয় ও সাবলীল ডায়ালগ ডেলিভারি দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্য মনে হতে দিত না যে তাঁরা কোনো পর্দায় অভিনয় দেখছেন। এই আধুনিক রূপ ও চিরসবুজ ব্যক্তিত্বই মূলত তাঁকে তিন দশক পরও নতুন ও পুরোনো প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় ও প্রিয় করে রেখেছে।