বাংলা চলচ্চিত্রে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও জটিল সামাজিক সম্পর্কগুলোকে খুব সহজ ও গভীরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন প্রয়াত খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ। গতকাল ৩১ আগস্ট ছিল এই কালজয়ী পথপ্রদর্শকের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী। তাঁকে স্মরণের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে তাঁর ব্যতিক্রমী জীবনশৈলী, চলচ্চিত্রে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতীয় সিনেমায় তাঁর কালজয়ী অবদানের নানা স্মৃতি।

১৯৬৩ সালের ৩১ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা ঋতুপর্ণ ঘোষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষে বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘হীরের আংটি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে পা রাখলেও তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা ‘উনিশে এপ্রিল’ দিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ‘দহন’, ‘বাড়িওয়ালি’, ‘উৎসব’, ‘চোখের বালি’, ‘রেইনকোট’ ও ‘চিত্রাঙ্গদা’-র মতো ১২টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী একের পর এক সিনেমার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে এক নিজস্ব ধারা তৈরি করেন তিনি। তাঁর ছবিতে অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই, অজয় দেবগন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়দের মতো শীর্ষ তারকারা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ও গভীরতায় ধরা দিয়েছেন।

চলচ্চিত্রের বাইরে ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও জেন্ডার পরিচয় নিয়েও ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টবাদী। সামাজিক বাধা ও উপহাসকে দূরে ঠেলে তিনি নিজের পোশাক, ব্যক্তিত্ব ও পরিচয়কে এক অনন্য বয়ানে রূপ দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ৩০ মে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে এই প্রতিভাবান নির্মাতার আকস্মিক প্রয়াণ ঘটে। চলে যাওয়ার এত বছর পরও তাঁর সিনেমা, চরিত্র ও মানুষের অন্তর্জগৎ দেখার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি দর্শক ও তরুণ নির্মাতাদের কাছে আজও এক বড় অনুপ্রেরণা।