কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দুই বাংলা। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে দিঘার সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার সেই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য। তবে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া শুটিংয়ের ক্যামেরার ফুটেজ এবং পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের বয়ানে উঠে এসেছে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের লোমহর্ষক বর্ণনা।

ফুটেজে যা দেখা গেল তদন্তকারীদের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, সমুদ্রের পাড়ে রাহুল ও নায়িকা শ্বেতা মিশ্রর হাত ধরে হাঁটার একটি দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। ড্রোন শটের মাধ্যমে দৃশ্যটি আরও নান্দনিক করার পরিকল্পনা ছিল ইউনিটের। কিন্তু ফুটেজে দেখা যায়, দৃশ্য চলাকালীন রাহুল শ্বেতার হাত ধরে সমুদ্রের গভীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। বাতাস বেশি থাকায় ইউনিটের লোকেদের বারণ করা সত্ত্বেও তাঁরা হয়তো তা শুনতে পাননি। এক পর্যায়ে শ্বেতা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ঢেউয়ের কবলে পড়েন রাহুল।

পরিচালকের বয়ান পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের দাবি, রাহুল ও শ্বেতাকে হাঁটু সমান পানিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাহুলই শ্বেতার হাত ধরে অনেকটা গভীরে চলে যান। পরিচালক বলেন, “আমরা চিৎকার করে বারণ করছিলাম, ‘যেও না, যেও না’। ইউনিটের ১০-১২ জন যারা সাঁতার জানে, তারাও দৌড়ে যায়। কিন্তু পানি টেনে নেওয়ায় ওরা অনেকটা দূরে চলে যায়।” শ্বেতার পরনে শাড়ি থাকায় তিনি টাল সামলাতে পারেননি, আর তাঁকে ধরতে গিয়েই বিপত্তি বাড়ে। শেষ পর্যন্ত লাইফ বোটে করে তাঁদের পাড়ে আনা হলেও রাহুল প্রচুর পানি খেয়ে ফেলেছিলেন। পাড়ে আনার সময় জ্ঞান থাকলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তদন্তের স্বার্থে সেই ক্যামেরাটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ড্রোনে বন্দি হওয়া শেষ মুহূর্তের দৃশ্যগুলো খতিয়ে দেখে ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত এই অপমৃত্যুর মামলাটি টলিউড ও ভক্তদের মনে অসংখ্য প্রশ্ন রেখে গেল।