ঈদুল ফিতরের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দম’-এ আফরান নিশোর বিপরীতে ‘রানী’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন পূজা চেরি। তবে এই জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। অডিশনের স্নায়ুচাপ থেকে শুরু করে কাজাখস্তানের মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রায় খালি পায়ে শুটিং। সব মিলিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।
অডিশনের সেই উৎকণ্ঠা পূজার ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম সিনেমা যেখানে তাঁকে অডিশন দিয়ে টিকে আসতে হয়েছে। তিনি জানান, কয়েক দফা অডিশন শেষে যখন ফলাফল আসছিল না, তখন তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে হয়তো বাদ পড়েছেন। পূজা বলেন, “অনেক দিন পর যখন বলা হলো ‘আপনি নির্বাচিত’, তখন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। নিজেকে নূরের রানী মনে হতে লাগল।” পরিচালক রেদওয়ান রনির কড়া নির্দেশনা ছিল যেন কোনো ‘অভিনয়’ না করা হয়, বরং পুরোপুরি বাস্তবসম্মতভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়।
প্রতিকূল পরিবেশে হাড়কাঁপানো শুটিং সিনেমার গল্পের প্রয়োজনে কাজাখস্তানের প্রচণ্ড শীতে শুটিং করতে হয়েছে পুরো টিমকে। মাইনাস টেম্পারেচারে পাতলা শাড়ি বা জামা পরে, এমনকি খালি পায়েও শট দিতে হয়েছে পূজাকে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে পা কেটে রক্ত বেরিয়েছে। শুধু কাজাখস্তান নয়, পাবনার কনকনে শীতে বৃষ্টির মধ্যেও শুটিং করতে হয়েছে। এমন প্রতিকূল অবস্থায় আগে কখনো কাজ করিনি।”
সিনিয়রদের থেকে অভিনয়ের পাঠ আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান ও ডলি জহুরের মতো শক্তিমান অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করাকে নিজের ‘পাঠশালা’ হিসেবে দেখছেন পূজা। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নিশো ভাই ও চঞ্চল ভাই প্রতিটি দৃশ্যে তাঁকে বড় ভাইয়ের মতো বুঝিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক টিমের সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারত্ব পূজাকে মুগ্ধ করেছে। বিদেশি ক্রুদের সাথে কাজ করে নতুন অনেক টেকনিক্যাল বিষয় শিখতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।