ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিওহটস্টারে (JioHotstar) মুক্তি পেয়েছে ভারতের খ্যাতনামা নির্মাতা রাজকুমার হিরানির নতুন ওয়েব সিরিজ ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’ (Pritam and Pedro)। সিনেমাটিক দুনিয়ায় হিরানির নিখুঁত হিউমার ও মানবিক গল্পের যে সিগনেচার স্টাইল রয়েছে, এই সিরিজের মাধ্যমে ওটিটির পর্দায় যেন আবারও তারই প্রতিফলন ঘটল। দীর্ঘ সাইবার ক্রাইম থ্রিলার বা রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশনের ট্রেন্ড ভেঙে হিরানি এবার হাজির হয়েছেন এক মন ছুঁয়ে যাওয়া ‘বাডি-কপ কমেডি’ (buddy-cop comedy) নিয়ে।

সিরিজের মূল গল্পটি আবর্তিত হয়েছে গোয়ার প্রেক্ষাপটে। যেখানে দেখা যায় ওল্ড-স্কুল বা পুরোনো ধাঁচের পুলিশ অফিসার পেড্রো, যে কি না প্রযুক্তির দিক থেকে একদমই কাঁচা। একটি রাজনৈতিক ঝামেলার শাস্তিস্বরূপ তাকে বদলি করা হয় সাইবার সেলে (cyber cell)। সেখানে গিয়ে সে বুঝতে পারে, তার হাতের চেনা লাঠি দিয়ে আইপি অ্যাড্রেসের (IP address) পেছনে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য হ্যাকারদের ধরা অসম্ভব। ঠিক তখনই তার সঙ্গে দেখা হয় তরুণ ও জিনিয়াস হ্যাকার প্রীতমের। প্রীতম ও তার দাদু থানায় এসেছিল তাদের হারিয়ে যাওয়া একটি পুরোনো টেপ রেকর্ডার খুঁজতে, যাতে প্রীতমের প্রয়াত ঠাকুমার গাওয়া একটি গানের ক্যাসেট ছিল।

এই সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুই চরিত্রের কোলাবরেশনই সিরিজের মূল প্রাণ। পেড্রো প্রীতমকে তার ঠাকুমার সেই হারিয়ে যাওয়া ক্যাসেট খুঁজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, আর বিনিময়ে প্রীতম তাকে সাহায্য করে জটিল সব সাইবার ক্রাইম কেস সলভ করতে। এনালগ ও ডিজিটাল জগতের এই মেলবন্ধন গল্পটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সিরিজে পেড্রো চরিত্রে আরশাদ ওয়ারসি (Arshad Warsi) তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছেন। চিরচেনা সাইডকিক ইমেজ ভেঙে মূল চরিত্রে তাঁর কমিক টাইমিং এবং ইমোশনাল ডেপথ ছিল এককথায় অসাধারণ। অন্যদিকে, প্রীতম চরিত্রে রাজকুমার হিরানির ছেলে বীর হিরানি (Vir Hirani) ডেবিউ বা প্রথম অভিনয় হিসেবে বেশ সাবলীল ও সৎ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। এছাড়া কোল্ড-ব্লাডেড ভিলেনের চরিত্রে বিক্রান্ত ম্যাসি (Vikrant Massey) এবং মোনা সিং (Mona Singh), বোমান ইরানি ও সঞ্জয় দত্তের ক্যামিও অ্যাপিয়ারেন্স সিরিজটিকে আরও জমজমাট করেছে।

ছয় পর্বের এই সিরিজটিতে সাইবার বুলিং ও অনলাইন ফ্রডের মতো সিরিয়াস বিষয়গুলোকে খুব হালকা চালে কমেডির আবরণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি শুধু একটি ক্রাইম সলভিং শো নয়, বরং আধুনিক অ্যালগরিদম ও এআই (AI)-এর যুগে মানুষের অনুভূতি, ভালোবাসা এবং ক্ষমার (forgiveness) গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার এক দারুণ গল্প।