একটি সড়ক দুর্ঘটনা অভিনেত্রী ও মডেল মেঘলা মুক্তার জীবনে নিয়ে এসেছে এক কালো অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের বিচার চাইতেই এবার বনানী থানার সামনেই দেখা গেল মডেল মেঘলা মুক্তাকে। কিন্তু কি ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনায় আর কেনই বা বিচারের দাবিতে থানার সামনেই ব্যানার হাতে মানববন্ধন করতে দেখা যায় মেঘলা মুক্তাকে।

মেঘলা মুক্তা বলেন, আমার মাথা থেকে একদম নাক পর্যন্ত অনেকগুলো সেলাই পড়েছে। আমার থুতনি সেলাই পড়েছে। আমি উপর হয়ে পড়াতে আমার দাঁত ভেঙ্গেছে। আমার এই চেহারা নিয়ে তো কোন ডিরেক্টর আমাকে নিয়ে কাজ করবেন না। কারণ সবাই সৌন্দর্য খোঁজে।

গাড়িতে সরকারি মন্ত্রণালয়ের স্টিকার অথচ দুর্ঘটনার পর থামলো না গাড়ি। গত 28 জুলাই রাতে বনানীতে দ্রুতগতির একটি সাদা নোয়ার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন মেঘলা। প্রায় 10 ফুট দূরে ছিটকে পড়ার পরেও ঘটনাস্থলে দেখা মেলেনি চালকের। এমনই অভিযোগ করছেন মডেল মেঘলা মুক্তা।

মেঘলা মুক্তা আরও বলেন, ২৮ জুলাই রাতে আমি বনানী সুপার মার্কেটের সাইড থেকে অপজিট সাইডে রাস্তা ক্রস করতে গিয়ে আমার জাস্ট শুধু মনে আছে যে আমাকে একটা গাড়ি ধাক্কা দেয় এবং আমি অনেকটা দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ি। এরপর আমি আনকনসাস হয়ে যাই। আমার আসলে এরপর আর কিছু মনে নাই।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। মেঘলার অভিযোগ চিকিৎসার সব মেডিকেল ডকুমেন্টস সহ প্রয়োজনীয় তথ্য তিনি বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে দেন। কিন্তু তার দাবি অভিযোগের একদিনের মধ্যেই এসব নথি আদালতে চালান করে দেয় বনানী থানা।

এই মডেল আরও বলেন, আমার এক্সিডেন্টের এক মাস তিন দিন পরে আবার একই অভিযোগের উপরে আবার মামলা করতে হয়েছে। এরপর তিন তারিখে গিয়ে গাড়িটা ধরা পড়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে। বনানী থানা আসলে নিজেদের কাছ থেকে তাদের রেসপন্সিবিলিটি কোর্টে দিয়ে দিছে। তো তারা একদিনের মাথায় গাড়িটাকে ধরে এটা কোর্টে দিয়ে দেওয়ার মানে হচ্ছে, কোর্ট শুধু তারিখ দিতে থাকবে কোন বিচার হবে না।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্টিকার যুক্ত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত মেঘলা। চালক পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও শেষ পর্যন্ত জব্দ হয়েছে গাড়ি। গ্রেফতার হয়েছেন চালক। তোলা হয়েছে আদালতেও। এখন প্রশ্ন একটাই। বনানী থানার সামনে দাঁড়িয়ে যে মেঘলা বিচার চেয়েছিলেন সেই বিচার কি শেষ পর্যন্ত পাবেন সেটি এখন দেখার বিষয়।