বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি সম্প্রতি রাজ শামানির এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে মা হওয়ার পরবর্তী কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। গত বছরের জুলাইয়ে কন্যাসন্তান সারায়ার জন্মের পর তিনি যে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন এই তারকা। কিয়ারা জানান, মাতৃত্বের আনন্দ থাকলেও সেই সময়টি হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে তার জন্য মানসিকভাবে বেশ অস্থির ছিল।
পডকাস্টে কিয়ারা জানান, সন্তান জন্মের পর তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন এবং সামান্য কারণেই তার কান্না পেত। নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা সেই দিনগুলো ছিল তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সারাদিন বাচ্চার দেখাশোনা ও খাওয়ানোর একঘেয়ে রুটিনে তিনি অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছিলেন এবং মানসিকভাবে এক ধরণের অস্থিরতা অনুভব করতেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রা তাকে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন দিয়ে গেছেন। সিদ্ধার্থ সেই সময় তার নতুন সিনেমার প্রচারণায় প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকলেও দিনের শেষে গভীর রাতে বাসায় ফিরে কিয়ারা ও সন্তানের পাশে থাকতেন। কিয়ারার ভাষ্যমতে, সিদ্ধার্থ তাকে কোনো উপদেশ না দিয়ে কেবল ধৈর্য ধরে তার সব কথা শুনতেন এবং পাশে থাকতেন, যা তাকে সেই সময়ে মানসিক প্রশান্তি ও নিরাপত্তা দিত।
চিকিৎসকের পরামর্শে সিদ্ধার্থ প্রতিদিন রাতে কিয়ারাকে গাড়িতে করে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেতেন যেন তিনি একটু মুক্ত বাতাস নিতে পারেন। সারাদিন ঘরে বন্দি থেকে বাচ্চার রুটিন সামলানোর পর এই রাতের ড্রাইভগুলো কিয়ারার মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করত। জীবনসঙ্গীর এমন সংবেদনশীল এবং সহযোগী আচরণ তাকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ও পরিস্থিতি সামলাতে শক্তি যুগিয়েছে।
পেশাদারিত্বের দিক থেকেও কিয়ারা ছিলেন অদম্য, কারণ গর্ভাবস্থার সাত মাস পর্যন্ত তিনি ‘টক্সিক’ সিনেমার শুটিং করেছেন যার মধ্যে বেশ কিছু কঠিন অ্যাকশন দৃশ্যও ছিল। মা হওয়ার মাত্র পাঁচ মাস পরেই গত ডিসেম্বরে তিনি আবারও পুরোদমে কাজে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা দম্পতি এখন তাদের সন্তান সারায়াকে নিয়ে নতুন জীবনের আনন্দ উপভোগ করছেন।