প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন বিদুষী বর্ণিতা। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবারই তাঁর অভিষেক হলেও অভিনয় তাঁর জন্য একেবারেই নতুন নয়। মাত্র তিন বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো এই অভিনেত্রী শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমায়। তবে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে নতুন পরিচয় পাওয়ার পর অভিনয়ের এই অধ্যায়কে একেবারে নতুন শুরু হিসেবেই দেখতে চান তিনি। এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতার সেই নতুন শুরুর গল্প এবার উঠে এসেছে।

ওয়েবে নতুন অধ্যায়: প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন বর্ণিতা। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র ‘নিউলি ম্যারেড’ গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। নতুন এই অভিজ্ঞতা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বর্ণিতা। প্রায় দুই মাস রিহার্সেল করার পর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, লাক্সের প্ল্যাটফর্ম থেকে এমন সম্ভাবনা নিয়ে বের হতে না পারলে হয়তো এই সুযোগও পাওয়া হতো না। রিহার্সেল থেকে শুরু করে শুটিংয়ের প্রতিটি ধাপেই নতুন কিছু শিখছেন তিনি। এরই মধ্যে ওয়েব ফিল্মটির প্রায় ৯০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে। আর একদিন শুটিং করলেই তাঁর অংশের কাজ শেষ হবে।

প্রথম কাজেই তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গ: প্রথম ওয়েব ফিল্মেই তৌসিফ মাহবুবের মতো একজন অভিজ্ঞ সহশিল্পীকে পাশে পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন বর্ণিতা। শুটিংয়ের সময় তৌসিফের কাছ থেকে নিয়মিত সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছেন তিনি। সংলাপ কীভাবে বলতে হবে, কোনো দৃশ্য কীভাবে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করা যায় কিংবা অভিনয়ের ছোটখাটো ভুল কীভাবে ঠিক করা যায়, এসব বিষয়ে তৌসিফ তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি নিজের অংশের পাশাপাশি বর্ণিতার অভিনয়ও কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এই আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য তৌসিফের প্রতি কৃতজ্ঞ বর্ণিতা। শুধু ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নয়, সামনে আরও কয়েকটি নাটকেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিশুশিল্পী থেকে কেন্দ্রীয় চরিত্র: বর্ণিতার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছে বহু বছর আগে। মাত্র তিন বছর বয়সে ২০০৯ সালে একটি বিজ্ঞাপনে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। অভিনয় করেছেন নাটকেও। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’ সিনেমাতেও শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন বর্ণিতা। সেখানে তাঁর চরিত্রের নাম ছিল শাওন। এত বছর পর এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত: শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার পর টিনএজে পা রেখে অভিনয়ের জন্য নতুন করে অডিশন দিতে শুরু করেন বর্ণিতা। কিন্তু একের পর এক অডিশনে প্রত্যাখ্যাত হতে থাকেন। নিজের যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর আস্থা থাকলেও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না, তা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে যখন দেখতেন পরিচিত টিকটকার বা ইনফ্লুয়েন্সাররা পরিচিতির কারণে বিভিন্ন কাজে সুযোগ পাচ্ছেন, তখন বিষয়টি তাঁকে আরও ভাবিয়ে তুলত। সেই হতাশা থেকেই নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার সিদ্ধান্ত নেন বর্ণিতা। এরপর অংশ নেন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই আসে বড় সাফল্য। এখন মজার বিষয় হলো, যাঁরা একসময় তাঁকে অডিশনে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন কাজের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

স্কুল-কলেজে ছিল না ঘনিষ্ঠ বন্ধু: সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ করেছেন বর্ণিতা। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ জীবনে তেমন কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু তৈরি হয়নি তাঁর। সহপাঠীদের সঙ্গে মিশলেও ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা নিজের কাছের মানুষ হিসেবে কাউকে সেভাবে পাননি। বর্ণিতার সবচেয়ে কাছের মানুষ তাঁর মা, যাঁকে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড মনে করেন তিনি। তবে লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর ফারিশতা মৌ ও নাযাহ নাওয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার মঞ্চে সবাই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সেখান থেকেই নিজের দুই প্রিয় বন্ধুকে পেয়েছেন বলে জানান বর্ণিতা।

অবসরে বই ও সিনেমায় ডুবে থাকেন: অভিনয়ের বাইরে বই পড়া ও সিনেমা দেখার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বর্ণিতার। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস তাঁর। বিশেষ করে বিদেশি লেখকদের বই পড়তে ভালোবাসেন তিনি। প্রিয় লেখক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফ্রাঞ্জ কাফকার নাম। একইভাবে বিদেশি সিনেমা ও সিরিজও নিয়মিত দেখেন। তবে নিজের দেশের নির্মাণগুলোর প্রতিও এখন আগ্রহ বাড়ছে তাঁর। সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের সিনেমা, নাটক ও অন্যান্য কাজ দেখার চেষ্টা করেন এই অভিনেত্রী।

পছন্দের অভিনেতাদের তালিকায় জয়া ও মেহজাবীন: অভিনয়ের জগতে বর্ণিতার পছন্দের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে বিপাশা হায়াত, অপি করিম ও আফসানা মিমির অভিনয় তাঁর ভালো লাগে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে জয়া আহসান ও মেহজাবীন চৌধুরী তাঁর বিশেষ পছন্দের। জয়া আহসানের অভিনয়, কাজের ধরন ও ব্যক্তিত্ব তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে বলে জানিয়েছেন বর্ণিতা। এ ছাড়া আফরান নিশো ও প্রীতম হাসানও তাঁর পছন্দের শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন।

স্বপ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে: পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়কেই ভবিষ্যতের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন বর্ণিতা। জীবনে যদি কখনো পড়াশোনা ও অভিনয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে অভিনয়কেই এগিয়ে রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর স্বপ্ন শুধু দেশের বিনোদন জগতে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি। অভিনয় কিংবা অন্য কোনো কাজ, যে মাধ্যমেই সুযোগ আসুক না কেন, দেশের পরিচয় আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাই তাঁর বড় স্বপ্ন।

ওয়েবের পর বড় পর্দার স্বপ্ন: আপাতত ছোট পর্দা ও ওয়েবের কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে আরও পরিণত করতে চান বর্ণিতা। তবে বড় পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্নও রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যে নির্মাতা রায়হান রাফীর সঙ্গে একটি সিনেমা নিয়ে কথাবার্তা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে সিনেমাটির কাজ শুরু হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চান না এই অভিনেত্রী। তবে তাঁর বর্তমান পথচলা বলছে, লাক্স সুপারস্টারের মুকুটের পর বিদুষী বর্ণিতার সামনে খুলে যাচ্ছে অভিনয়ের আরও বড় এক অধ্যায়।