সাউথ সুপারস্টার অখিল আক্কিনেনির তিন বছর পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং নবাগত ভাগ্যশ্রী বোরসের রসায়ন নিয়ে মুক্তি পেয়েছে নতুন তেলুগু অ্যাকশন-ড্রামা ‘লেনিন’ (Lenin)। গ্রীক ও ভারতীয় পৌরাণিক গল্পের অনুপ্রেরণায় এক মহাকাব্যিক প্রেমের গল্প উপহার দেওয়ার দাবি করলেও, অতিরিক্ত টুইস্ট আর চেনা ফর্মুলার কারণে সিনেমাটি সমালোচকদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

মুরালি কিশোর আব্বুরু পরিচালিত এই সিনেমাটির মূল পটভূমি অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার একটি কাল্পনিক গ্রাম, যেখানে দ্রৌপদী উৎসবকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। ছবিতে অখিল আক্কিনেনি একজন বহিরাগত যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে ভাগ্যের অন্বেষণে গ্রামে এসে পরবর্তীতে সবার প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠে। কিন্তু নিজের কাছের মানুষদের কাছ থেকেই পাওয়া ধোঁকা ও বিশ্বাসঘাতকতা তাকে প্রতিশোধের এক রক্তাক্ত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

চলচ্চিত্র সমালোচক সঙ্গীতা দেবী দুন্দু জানান, সিনেমাটির প্রথমার্ধে গ্রামীণ পরিবেশের নিখুঁত ডিটেইলিং এবং মহাভারতের ‘শকুনি’ চরিত্রের আদলে তৈরি জুয়া খেলার পর্বগুলো বেশ ভালো রহস্য তৈরি করে। তবে গল্পের মূল জায়গা অর্থাৎ অখিল ও ভাগ্যশ্রীর প্রেমের গভীরতা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন পরিচালক। দর্শক এই জুটির আবেগের সাথে পুরোপুরি সংযোগ স্থাপন করার আগেই সিনেমাটি অতিরিক্ত গান ও নাচের চেনা ফর্মুলায় হারিয়ে যায়। এছাড়া মূলধারার তেলুগু সিনেমার মতো এই ছবিতেও নায়িকার কোমর বা অবয়বকে অতিরিক্ত হাইলাইট করার মাধ্যমে নারীদের অবজেক্টিফাই করার পুরোনো মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে দীর্ঘ বিরতির পর অখিল আক্কিনেনি তাঁর চেনা শহুরে ইমেজ ভেঙে চিত্তুরের আঞ্চলিক ভাষায় যেভাবে নিজেকে গ্রামীণ অবতারে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা প্রশংসনীয়। অন্যদিকে, ‘ক্লান্তা’ সিনেমার পর ভাগ্যশ্রী বোরসেও নিজের অভিনয় দক্ষতার দারুণ প্রমাণ দিয়েছেন। ছবিতে তাঁর চরিত্রটি কেবল দর্শক হয়ে থাকার নয়, বরং নিজের অধিকার ও সম্মতি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি আবহ সংগীতে এস থামান এবং সিনেমাটোগ্রাফিতে লিও ব্রিটো তাঁদের সেরাটা দিয়ে মেলোড্রামাটিকে কিছুটা জমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। ১৫৯ মিনিটের এই সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত টুইস্ট ও পৌরাণিক দোহাইয়ের কারণে দর্শকদের জন্য কিছুটা ক্লান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়ে।