কিম কার্ডাশিয়ান এখন আইনচর্চার পথে। তবে গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া বার পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এই ব্যর্থতার মুহূর্তটি সম্প্রতি তাঁর রিয়েলিটি শো ‘দ্য কার্ডাশিয়ানস’-এ দেখানো হয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ক্লিপে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সোফায় বসে ফলাফলের অপেক্ষায় কিম। পাশে রয়েছেন ক্রিস জেনার, খোলে কার্ডাশিয়ান এবং তাঁর ছেলে সেন্ট। ঠিক বিকেল পাঁচটায় ফল প্রকাশের সময় ঘনিয়ে এলে বারবার ফোন রিফ্রেশ করতে থাকেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড পরই স্পষ্ট হয়, যেটা তিনি আগেই আশঙ্কা করছিলেন, সেটাই হয়েছে।

‘আমি পাস করিনি। ঠিক আছে, আমি আন্দাজ করেছিলাম,’ বলেন কিম। সংযত থাকার চেষ্টা করলেও কণ্ঠ ভেঙে যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে জল চলে আসে।

খোলে জানতে চাইলে কেন তিনি আগেভাগেই ফলাফল বুঝতে পেরেছিলেন, কিম বলেন, পরীক্ষার সময়ই তাঁর মনে হয়েছিল লেখাগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি। তাঁর ধারণা ছিল, সেটার প্রভাব পড়তে পারে ফলাফলে।

মেয়ের হতাশায় ক্রিস জেনার বলেন, এত পরিশ্রম করার পর এমন ফল সত্যিই কষ্টের। খোলে বিষয়টি আরও সরাসরি দেখেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যস্ততা কিমের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রিয়েলিটি শোর শুটিং আর একই সঙ্গে কঠিন আইনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। একদিকে আইনগত বিষয় মুখস্থ করা, অন্যদিকে শোর স্ক্রিপ্ট, দুটো সামলানো চাপ বাড়িয়েছে।

এই সময় কিম নিজেকেই বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমি একদম ব্যর্থ।’

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর কিম সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তাঁর বার পরীক্ষার প্রস্তুতির নানা মুহূর্ত ধরা পড়ে। ক্যাপশনে তিনি জানান, ৭ নভেম্বর ফল জানার পর বুঝেছিলেন তিনি পাস করেননি। তিনি লেখেন, এই ব্যর্থতা হতাশাজনক হলেও এটি শেষ নয়। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন তাঁর কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, তাই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামবেন না।

বার পরীক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে কিম বলেন, ফল জানার দিনটি তাঁর জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। কারণ, তিনি এতে অনেক সময় ও পরিশ্রম দিয়েছেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, তিনি আরও ভালো করতে পারবেন।

শেষ পর্যন্ত কিমের কথায় স্পষ্ট, ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থতা মেনে নিতে পারি। এখন এই দুঃখ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।’