হলিউডের জনপ্রিয় মনস্টারভার্স চলচ্চিত্র ‘গডজিলা বনাম কং’ এবং ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এ জিয়া চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করা তরুণ অভিনেত্রী কাইলি হটল আর নেই। মাত্র ১৮ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই বধির অভিনেত্রী। তাঁর বাবা জোশুয়া হটল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (এএসএল) ব্যবহার করে মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কাইলির মৃত্যু হয়েছে।
কাইলির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফও এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফ্রেডেরিকে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তারা তাদের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারিয়েছে। একই সঙ্গে কাইলির পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি সবাইকে দুর্ঘটনা নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা অনুমান না ছড়ানোর এবং পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।
কাইলি হটল ছিলেন বহু প্রজন্মের বধির পরিবারের সদস্য। তিনি এবং তাঁর বাবা দুজনেই বধির ছিলেন। অভিনয়জগতে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ ছিল মনস্টারভার্স সিরিজে জিয়া চরিত্রে অভিনয়। জিয়া ছিল এক বধির অনাথ কিশোরী, যার সঙ্গে কিং কং-এর একটি গভীর আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চরিত্রটি প্রথম দেখা যায় ২০২১ সালের ‘গডজিলা বনাম কং’ চলচ্চিত্রে এবং পরে ২০২৪ সালের ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করেন।
এই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে কাইলি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এ তাঁর অভিনয় সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়ায় এবং তিনি ‘সেরা তরুণ অভিনেতা/অভিনেত্রী’ বিভাগে স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পান।
২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে কাইলি অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, চিত্রনাট্য মুখস্থ করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল না, তবে সংলাপকে আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে স্বাভাবিকভাবে রূপান্তর করা অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত। কারণ কথ্য ভাষার বাক্যগঠন এবং সাইন ভাষার প্রকাশভঙ্গি এক নয়। এ কারণে শুটিংয়ের সময় মাঝে মাঝে পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে ভাষাগত বোঝাপড়ার সমস্যা তৈরি হলেও পরে সবাই বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন।
অল্প বয়সেই অভিনয় প্রতিভা ও বধির সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কাইলি হটল বহু মানুষের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে হলিউডের পাশাপাশি বধির সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে।