মেঘনা গুলজার পরিচালিত ‘দায়রা’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারিনা। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে নিজের অভিনয়জীবন ও জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী।

ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে কারিনা জানান, অভিনয়ের প্রতি তাঁর আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। তাঁর মতে, অভিনয় তাঁর রক্তে মিশে আছে এবং অভিনয় করার জন্যই যেন তাঁর জন্ম। কাপুর পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে অভিনয়ে আসা নয়, বরং নিজের ভালোবাসা ও আগ্রহ থেকেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রযোজনা, পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করলেও অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর বলে মনে করেন কারিনা।

অভিনয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে বলেও মনে করেন না এই অভিনেত্রী। নিজের প্রতিভা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কারিনা বলেন, তিনি সব সময়ই মনে করেছেন অভিনয়ের আরও অনেক দিক অন্বেষণ করার সুযোগ রয়েছে। ভিন্নধর্মী চরিত্র ও গল্পের মাধ্যমে নিজেকে আরও মেলে ধরার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর।

অনুষ্ঠানে পুরুষদের আবেগ প্রকাশ নিয়েও কথা বলেন কারিনা। তাঁর মতে, নারীরাই বেশি সংবেদনশীল, এমন ধারণা ঠিক নয়। বর্তমানে অনেক পুরুষ নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন না। কাঁদা বা অনুভূতি প্রকাশ করাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখারও কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি।

দুই ছেলের মা হিসেবে সন্তানদের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কারিনা। তিনি বলেন, সন্তানদের কাঁদতে ইচ্ছা করলে কাঁদতে দেওয়া উচিত। তাদের ভেতরে তৈরি হওয়া অনুভূতিগুলো বুঝতে এবং সেগুলো প্রকাশ করতে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে মনে করেন তিনি।

কারিনা আরও জানান, একজন মা হিসেবে সন্তানদের নিরাপদ রাখা এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম বড় দায়িত্ব। তিনি চান, তাঁর সন্তানরা ভালো ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে আরও বেশি সহমর্মিতা থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী।

কারিনার মতে, শিশুদের নিজেদের আবেগ অনুভব ও প্রকাশ করার স্বাধীনতা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই সংবেদনশীলতা ও সহানুভূতির মূল্য শেখানো উচিত। তাঁর বিশ্বাস, আবেগ প্রকাশের সুযোগ পাওয়া একটি শিশুর সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।