বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র এই আপ্তবাক্যটি যাঁর ক্ষেত্রে প্রতি নিয়ত শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়, তিনি আর কেউ নন, দুই বাংলার রূপালি পর্দার রানী জয়া আহসান। আজ ১ জুলাই, জীবনের ৪২টি বসন্ত পেরিয়ে ৪৩ বছরে পা রাখলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কালজয়ী এই অভিনেত্রী। ১৯৮৩ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া জয়া আজও তাঁর চিরসবুজ গ্ল্যামার, নিখুঁত ফিটনেস আর অনবদ্য অভিনয়শৈলী দিয়ে তরুণীদেরও রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছেন।
জয়া আহসান শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই নন, বরং দুই বাংলার চলচ্চিত্র সংস্কৃতির এক অনন্য ও মজবুত সেতু। নব্বইয়ের দশকে মডেলিং ও ছোট পর্দা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও খুব দ্রুতই নিজের জাত চিনিয়ে বড় পর্দায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। চলচ্চিত্রে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে ২০১১ সালে ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রে বিলকিস বানু চরিত্রে তাঁর ঐতিহাসিক অভিনয় ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই ছবির হাত ধরেই তিনি প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই গ্ল্যামার কন্যাকে। ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রী’, ‘দেবী’ এবং ‘বিউটি সার্কাস’-এর মতো ভিন্নধর্মী ও মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চার-চারবার বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন দূরদর্শী প্রযোজক হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন জয়া; হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে তাঁর প্রযোজিত ও অভিনীত ‘দেবী’ সিনেমাটি বক্স অফিসে দারুণ বাণিজ্যিক সাফল্য পায়।
ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে জয়া নিজের অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন ওপার বাংলা তথা ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ দিয়ে কলকাতায় রাজকীয় অভিষেক হওয়া জয়া খুব দ্রুতই সেখানকার প্রথম সারির নির্মাতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হন। সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনী’, কৌশিক গাঙ্গুলির ‘বিসর্জন’ ও ‘বিজয়া’ এবং অতনু ঘোষের ‘বিনিসুতোয়’ চলচ্চিত্রে তাঁর মায়াবী ও শক্তিশালী অভিনয় দুই বাংলার দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমালোচকদেরও ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। জয়া আহসানই প্রথম বাংলাদেশী অভিনেত্রী, যিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস ইস্টার্ন’ (Filmfare Awards East)-এ টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে দেশের গৌরব আন্তর্জাতিক দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
শুধুমাত্র রূপালি পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে জয়া সবসময় সচেতন। তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এছাড়া পশুপাখির অধিকার রক্ষা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও তিনি সবসময় অগ্রণী ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
আজ পয়লা জুলাই, এই প্রিয় অভিনেত্রীর ৪৩তম জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন, সহকর্মী এবং দেশ-বিদেশের কোটি ভক্তরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকাল থেকেই বইছে শুভেচ্ছার জোয়ার। জীবনের নতুন বছরে এসেও জয়া আহসান বরাবরের মতোই তাঁর কাজের মাধ্যমে দর্শকদের বড়সড় চমক দেওয়ার জন্য একাধিক মেগা প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুভ জন্মদিন জয়া আহসান বাঙালি চলচ্চিত্রের চিরযৌবনা এক কালজয়ী লিগ্যাসি!