বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক, এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানির অভিযোগ। মুম্বাইয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন ও চাচাতো বোন জায়েন মারি খান। কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেও আটকের কারণ না জানানো এবং বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনজন।
গতকাল শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের বাইরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান, লেখা ও জায়েন। বিকেল ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে। পরে তাঁদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে লেখা জানান, তাঁরা নিরাপদে আছেন। পরে বাড়িতে ফিরে তিনজনের একে অপরকে জড়িয়ে ধরার একটি ভিডিওও সামনে আসে। তবে মুক্তির পরও পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লেখা।
তাঁর অভিযোগ, বাড়ি ফেরার জন্য তাঁদের ট্যাক্সি নিতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ট্যাক্সিচালকদেরও পুলিশ হুমকি দিচ্ছিল। ফলে থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও বাড়ি ফেরার পথে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের।
আটকের কারণ জানায়নি পুলিশ, অভিযোগ ইমরানদের
আটকের সময়ের বিভিন্ন ঘটনা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তুলে ধরেন জায়েন মারি খান। তাঁর দাবি, কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চাইলেও পুলিশের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি তাঁরা। ইয়েলো গেট থানার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জায়েনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের পিছু নেন। আটকের কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা শুধু ‘দুই মিনিট’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন তিনি।
ইমরান খানের অভিযোগ, তাঁদের তিনজনকে পুলিশের ভ্যানে করে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘোরানো হয়েছে। অথচ কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
আটকের কারণ জানতে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা চলে যেতে থাকলে তাঁদের দিকে হাত নেড়ে ‘জয় হিন্দ’ বলেন ইমরান।
পুলিশের ভ্যানে বসে রসিকতা ইমরানের
আটকের ঘটনাকে ঘিরে রসিকতা করতেও দেখা গেছে অভিনেতাকে। পুলিশের ভ্যানে বসে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তবে ইমরান, লেখা ও জায়েনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআইআর নিয়ে বিক্ষোভ, মুম্বাইয়ে অনুমতি নিয়ে বিতর্ক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সিজেপির কর্মীদের বক্তব্য, তাঁরা ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি।
মুম্বাইয়ের পাশাপাশি দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভকারীদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদের মধ্যেই মুম্বাইয়ে ইমরান খান ও তাঁর সঙ্গীদের আটকের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।