বলিউডের তুলনায় হলিউডে কাজ করা সহজ বলে মনে করেন অভিনেত্রী এলনাজ নরৌজি। ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে কাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমা বিশ্বের কাজের ধরন তাঁর বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি হলিউডের অ্যাকশন সিনেমা ‘দ্য ফিক্স’-এ লিয়াম নিসন ও জ্যাকারি লেভির সঙ্গে অভিনয় করেছেন এলনাজ। গত সপ্তাহে ভারতে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এর আগে গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ছবিটি। দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া সাড়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেত্রী জানান, এমন স্বীকৃতি তাঁর কাছে বিশেষ কিছু।

এলনাজ বলেন, ‘বিষয়টি আমার কাছে ভীষণ বিশেষ। এমন কিছু হবে, তা আমি প্রত্যাশা করিনি। কিন্তু যখন হয়েছে, তখন নিজের কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।’

লিয়াম নিসনের কাছ থেকে যা শিখেছেন

হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা লিয়াম নিসনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও এলনাজের কাছে স্মরণীয়। শুটিং সেটে তাঁর স্বাভাবিক আচরণ ও সবার সঙ্গে সহজভাবে মেশার ধরন অভিনেত্রীকে মুগ্ধ করেছে।

এলনাজের ভাষায়, ‘সেটের মধ্যে তিনি যেভাবে স্বাভাবিকভাবে থাকেন, তা আমার কাছে শেখার মতো। তাঁর কথা বলা, অভিনয় করা এবং সবার সঙ্গে আচরণের মধ্যেও সেই স্বাভাবিকতা ফুটে ওঠে।’

পশ্চিমা বিশ্বের তারকাদের সঙ্গে ভারতীয় সুপারস্টারদের পার্থক্য নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। এলনাজের মতে, দুই ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের মধ্যে বিনয় ও সাধারণ মানুষের মতো আচরণের ক্ষেত্রে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

সালমান খান, শাহরুখ খান ও হৃতিক রোশনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জেরার্ড বাটলার, লিয়াম নিসন কিংবা জ্যাকারি লেভির মতো তাঁরাও বিনয়ী। সুপারস্টারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন বলে মনে হলেও বাস্তবে তাঁদের অনেকেই অত্যন্ত সহজভাবে সবার সঙ্গে মেশেন।

বলিউডে মানিয়ে নেওয়া কেন কঠিন?

২০২৩ সালে জেরার্ড বাটলারের সঙ্গে ‘কান্দাহার’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে অভিষেক হয় এলনাজের। বলিউড ও হলিউডের মধ্যে কাজের পরিবেশের তুলনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে মানিয়ে নেওয়াটাই তাঁর জন্য বেশি কঠিন ছিল।

এলনাজ বলেন, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ করা আমার জন্য বেশি কঠিন ছিল। পশ্চিমা বিশ্বের কাজের পরিবেশ আমার বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বেশি মেলে, কারণ আমি জার্মানিতে বড় হয়েছি। ভারতের চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। এখানকার কাজের ধরন বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে।’

ইরানি ও জার্মান বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী ‘তেহরান’ ও ‘মাস্তি ৪’-এর মতো হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দুটি ছবিই মুক্তি পেয়েছে ২০২৫ সালে।

বিদেশি অভিনেতাদের জন্য সীমিত চরিত্র?

ভারতীয় সিনেমায় বৈচিত্র্যের অভাব নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন এলনাজ। তাঁর মতে, বিদেশি চেহারার অভিনেতাদের প্রায়ই নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে তাঁদের অভিনয়দক্ষতা প্রকাশের পরিসর সীমিত হয়ে পড়ে।

এলনাজের ভাষ্য, ভারতীয় সিনেমা ও সিরিজের গল্পগুলো মূলত ভারতকেন্দ্রিক। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গল্প বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ইংল্যান্ড কিংবা পাকিস্তানকে ঘিরে আবর্তিত হয়। বিপরীতে, পশ্চিমা চলচ্চিত্রে বিভিন্ন দেশের পটভূমি ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

অভিনেত্রীর মতে, গল্প বলার ধরন ও চরিত্রের বৈচিত্র্য বাড়ানো গেলে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পেও ভিন্ন দেশের পটভূমি থেকে আসা অভিনয়শিল্পীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে।