অজয় দেবগন অভিনীত ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত প্রাথমিক রিভিউয়ে সিনেমাটির টানটান উত্তেজনা, অজয় দেবগন ও জয়দীপ আহলাওয়াতের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ক্যামেরার কাজ, চমক এবং অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন অনেক দর্শক। কেউ কেউ সিনেমাটিকে ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির শক্তিশালী সংযোজন বলেও মন্তব্য করেছেন।

সিনেমার প্রথমার্ধ ও ইন্টারভ্যাল নিয়েই বেশি আলোচনা দেখা গেছে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায়। এক দর্শক অজয় দেবগন ও জয়দীপ আহলাওয়াতের মুখোমুখি দৃশ্যের প্রশংসা করে সেটিকে দুর্দান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। আরেক দর্শকের মতে, ইন্টারভ্যাল পর্যন্ত জয়দীপের চরিত্র যেভাবে টেনশন তৈরি করেছে, তা সিনেমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

কারিগরি দিক নিয়েও প্রশংসা করেছেন দর্শকদের কেউ কেউ। এক দর্শকের মতে, সিনেমার ক্যামেরার কাজই গল্পের অনেকটা অংশ তুলে ধরে। প্রতিটি ফ্রেমের ফ্রেমিং, ক্লোজআপ ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিজয় সালগাঁওকর চরিত্রে অজয় দেবগনের উপস্থিতিও তার কাছে আগের মতোই আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

তৃতীয় কিস্তিতে অক্ষয় খান্নার অনুপস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে দর্শকদের আলোচনায়। একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে অক্ষয় খান্নার সরে যাওয়া তার ক্যারিয়ারের একটি বড় সুযোগ হারানো হতে পারে। তবে একই সঙ্গে জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন তিনি।

বিজয় সালগাঁওকরকে এবার আরও অসহায় ও ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন একজন দর্শক। তার মতে, প্রতিটি দৃশ্যে যেভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে, তাতে গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের আগ্রহও বাড়তে থাকে।

আরেকটি বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ায় সিনেমার রহস্য তৈরির ধরন ও অভিনয়শিল্পীদের প্রশংসা করা হয়েছে। ওই দর্শকের মতে, নতুন একটি দিক দিয়ে মামলাটিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গল্পে ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা ধরে রাখা হয়েছে। ইন্টারভ্যালের আগের দৃশ্যগুলোকে শক্তিশালী ও ভালোভাবে নির্মিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অজয় দেবগন ও জয়দীপ আহলাওয়াত নিজেদের চরিত্রের শক্তির জায়গাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছেন বলেও প্রশংসা এসেছে। পাশাপাশি গৈতোন্ডে চরিত্রে কমলেশ সাওয়ান্তের অভিনয় এবং তাবু, শ্রিয়া শরণসহ অন্য অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছেন দর্শকদের কেউ কেউ।

দ্বিতীয়ার্ধ ও ক্লাইম্যাক্স নিয়েও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক দর্শকের মতে, সিনেমাটি মনোযোগ দিয়ে দেখলে কিছু বিষয় অনুমান করা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ ঘটনাই অপ্রত্যাশিতভাবে সামনে আসে এবং ভালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আরেকজন ‘দৃশ্যম ৩’কে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে টানটান উত্তেজনা, চমক ও বিজয় সালগাঁওকরের বুদ্ধির খেলার প্রশংসা করেছেন।

তবে এগুলো সিনেমাটির মুক্তির পর পাওয়া দর্শকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তারিত রিভিউ ও দর্শক মতামত সামনে আসবে।

এদিকে ‘দৃশ্যম ৩’-এর গল্প নিয়ে আগেই অজয় দেবগন জানিয়েছিলেন, হিন্দি সংস্করণটি মালয়ালম ‘দৃশ্যম ৩’-এর একই গল্প অনুসরণ করছে না। FICCI Frames-এ কথা বলার সময় তিনি জানান, তৃতীয় পর্বের জন্য নতুন চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে এবং প্রায় দুই বছর ধরে সেটি নিয়ে কাজ করেছেন নির্মাতারা।

মে ২০২৬-এ মুক্তি পাওয়া মালয়ালম ‘দৃশ্যম ৩’-এ জর্জকুট্টির গল্পকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে হিন্দি সংস্করণে বিজয় সালগাঁওকরের গল্পকে নিজস্ব পরিণতির দিকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিষেক পাঠক পরিচালিত ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’-এ অজয় দেবগনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তাবু, শ্রিয়া শরণ, রজত কাপুর, জয়দীপ আহলাওয়াত ও প্রকাশ রাজ। আরও রয়েছেন কমলেশ সাওয়ান্ত, ইশিতা দত্ত ও মৃণাল যাদব। স্টার স্টুডিও১৮ উপস্থাপিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে প্যানোরামা স্টুডিওস।