চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ এবং অত্যন্ত মানবিক এক সহশিল্পী। দর্শক আমাদের জুটিকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল, যার প্রমাণ হিসেবে আমরা প্রায় ৪০টির মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছি। তাঁর মধ্যে এক সহজাত সৌন্দর্য ছিল যা পর্দার বাইরেও মানুষকে দ্রুত আপন করে নিত। তিনি কেবল একজন নায়কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং সহকর্মীদের কাছে ছিলেন এক অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং দয়ালু মানুষ।
জাফর ইকবাল কেবল দেখতেই সুদর্শন ছিলেন না, বরং গিটার হাতে চমৎকার গান গেয়ে শ্যুটিংয়ের অবসরে পুরো সেট মাতিয়ে রাখতেন। নানা শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও কাজের জায়গায় তা প্রকাশ করতেন না এবং হাসিমুখে নিজের দায়িত্ব পালন করতেন। আমাদের অভিনীত ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমাটি ছিল একটি মাইলফলক, যার শ্যুটিং হয়েছিল ব্যাংককে। সেই ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের স্মৃতি এবং জাফর ইকবালের অভিনয়ের বিশেষ ধরন আজও দর্শকদের কাছে অমলিন হয়ে আছে।
আমাদের জুটির শুরু হয়েছিল ‘মামা ভাগ্নে’ সিনেমার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে ‘হারজিৎ’ ছবির গান ও অভিনয় আমাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। জাফর ইকবালকে সবাই চিরসবুজ নায়ক হিসেবেই চেনে, কারণ তিনি ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত মার্জিত ও বিনয়ী। কারও নামে কখনও নিন্দা করা বা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর এই চারিত্রিক মাধুর্য এবং পেশাদারিত্ব তাঁকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
আজ এই গুণী অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কাজ, গান এবং অতুলনীয় মানবিকতা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে শিল্পের প্রতি সৎ থেকে বিনয় বজায় রাখতে হয়। বাংলাদেশের সিনেমার সোনালী অধ্যায়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জাফর ইকবাল মানুষের হৃদয়ে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।