যুদ্ধ শেষ হলেও তার রেশ কি সত্যি শেষ হয়, নাকি মানুষের ভেতরের লড়াইটা শুরু হয় যুদ্ধের পরেই? প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা
ট্রয় যুদ্ধ শেষে বিজয়ী গ্রিক সেনাপতি ওডেসিয়াস (ম্যাট ডেমন) যখন তাঁর স্ত্রী পেনেলোপি (অ্যান হ্যাথাওয়ে) ও ছেলে টেলেমাকাসের কাছে ফেরার পথ ধরেন, তখন সেই পথটি কেবল সমুদ্রের ঢেউ পেরিয়ে যাওয়ার নয়, নিজের ভেতরের অপরাধবোধ ও ট্রমাকে অতিক্রম করারও এক যুদ্ধ। হোমারের পৌরাণিক চরিত্র ও উপাদান সাইক্লোপস, সাইরেন কিংবা সার্সিকে নোলান রূপক হিসেবে ব্যবহার করে আধুনিক বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার’ (পিটিএসডি)-এর অদৃশ্য ক্ষত ফুটিয়ে তুলেছেন।
নোলান এই সিনেমায় যুদ্ধকে রোমান্টিক বা বীরত্বপূর্ণ রূপ না দিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছেন। ওডেসিয়াসের বয়ানে উঠে আসে, হেলেনকে নিয়ে বিখ্যাত যুদ্ধের গল্পটি ছিল কেবল একটি বাহানা; আসল লড়াই ছিল মূলত ক্ষমতা এবং বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। এমনকি বহুল পরিচিত ট্রোজান হর্সের দৃশ্যকেও নোলান নিজের উদ্ভাবনী দক্ষতায় নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
অভিনয়ের দিক দিয়ে ম্যাট ডেমন একজন ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত মানুষের চরিত্রে অসাধারণ। পাশাপাশি সংযত অভিনয়ে অ্যান হ্যাথাওয়ে, অ্যান্টিনাউস চরিত্রে রবার্ট প্যাটিনসন, টেলেমাকাস চরিত্রে টম হল্যান্ড এবং অ্যাথেনা চরিত্রে জেনডায়াও নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। হয়টে ভ্যান হয়টেমার সিনেমাটোগ্রাফিতে আইম্যাক্স পর্দায় সমুদ্র যেন ছবির আরেকটি জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছে। তিন ঘণ্টার এই সিনেমাটি কেবল একটি পৌরাণিক মহাকাব্যের চলচ্চিত্ররূপ নয়, এটি যুদ্ধের পর মানুষের মানসিক লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল।