তিন দশকের দীর্ঘ সংগীতজীবনে অস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পাওয়া এ আর রহমান সম্প্রতি বলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ‘মাদ্রাজ মোজার্ট’ হিসেবে পরিচিত এই বিশ্বখ্যাত সুরকার মনে করেন যে গত আট বছরে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির শিকার হয়েছেন। তার মতে, সৃজনশীলতাহীন কিছু মানুষের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ায় এবং ধর্মীয় বিভাজনের কারণে তার একের পর এক কাজ হাতছাড়া হচ্ছে, যা বলিউডে এক অস্থির পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

একটি সাক্ষাৎকারে রহমান সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই বলিউডে তার কাজের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি মনে করেন বর্তমানে যারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় আছেন তাদের মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে এবং এর সাথে ধর্মীয় বিভাজন যুক্ত থাকার জোরালো সম্ভাবনা আছে। যদিও সরাসরি কেউ তাকে কিছু বলেনি, তবে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরে এমন কানাঘুষো তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণী চলচ্চিত্রে তার অধিক ব্যস্ততার পেছনে যে এই কারণগুলোই কাজ করছিল তা এখন তার বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রহমানের এই মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন অনেকেই তার কোণঠাসা হয়ে পড়ার বিষয়টি সমর্থন করছেন, অন্যদিকে বিপক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি ২০২২ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন এবং বিজেপি সরকারের আমলেও তার সাফল্য অব্যাহত ছিল। ফলে বর্তমান শাসনকালে তার কাজ না পাওয়ার দাবিটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মতভেদ দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবের এই বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।