প্রায় নয় বছর পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন বলিউড তারকা আমির খান। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘সিতারে জমিন পার’ ২০২৭ সালের বসন্তে জাপানের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। দেশটিতে সিনেমাটি ‘সিতারে! দ্য মিরাকল টিম অব স্টারডাস্ট’ নামে মুক্তি পাবে।
জাপানি পরিবেশক গিক পিকচার্স গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিনেমাটির মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের হিউম্যান ট্রাস্ট সিনেমা ইউরাকুচো, ইয়েবিসু গার্ডেন সিনেমাসহ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে ‘সিতারে জমিন পার’ প্রদর্শিত হবে।
জাপানে আমির খানের অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা হিসেবে ‘দঙ্গল’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৮ সালে। এর পরের বছর, ২০১৯ সালের আগস্টে, আমির খান প্রযোজিত ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ও জাপানের দর্শকদের কাছে পৌঁছেছিল। তবে ‘সিতারে জমিন পার’ হবে নয় বছর পর দেশটির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া আমিরের নতুন অভিনীত সিনেমা।
‘সিতারে জমিন পার’ নামটি ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া আমির খানের জনপ্রিয় সিনেমা ‘তারে জমিন পার’-এর কথা মনে করিয়ে দিলেও এটি সেই সিনেমার সরাসরি সিক্যুয়েল নয়। গল্প ও আবেগের দিক থেকে সিনেমাটিকে ‘তারে জমিন পার’-এর আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আর. এস. প্রসন্ন পরিচালিত সিনেমাটি ২০১৮ সালের স্প্যানিশ কমেডি ছবি ‘চ্যাম্পিয়নস’-এর ভারতীয় রিমেক। এতে আমির খান অভিনয় করেছেন গুলশান নামের এক সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের চরিত্রে। ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণে একপর্যায়ে নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গুলশানকে সামাজিক সেবামূলক কাজের সাজা দেওয়া হয়। সেই সাজার অংশ হিসেবে তাঁকে একটি বাস্কেটবল দলের কোচের দায়িত্ব নিতে হয়। দলের সদস্যরা সবাই প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্ক। শুরুতে কাজটিকে শাস্তি হিসেবেই দেখলেও ধীরে ধীরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বদলাতে থাকে।
দলের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে গুলশানের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসে। সাফল্য, ব্যর্থতা ও মানবিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিককে হাসি ও আবেগের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে।
‘সিতারে জমিন পার’-এর অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল অভিনয়শিল্পীদের নির্বাচন। দলের ১০ সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনেও প্রতিবন্ধী ১০ জন নতুন অভিনয়শিল্পী। দীর্ঘ অডিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হয়।
বক্স অফিসেও সিনেমাটি উল্লেখযোগ্য আয় করেছে। ট্রেড ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের হিসাবে, ‘সিতারে জমিন পার’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬৭.৫২ কোটি রুপি আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতে প্রায় ২০০.৭৭ কোটি এবং বিদেশের বাজার থেকে ৬৬.৭৫ কোটি রুপি এসেছে। ভারতে সিনেমাটির নেট আয় ছিল প্রায় ১৬৭.৪৬ কোটি রুপি।
২০২৭ সালের বসন্তে জাপানে মুক্তির পর আমির খানের সিনেমাটি সেখানে দর্শকদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।