মাত্র ৫০০ টাকায় কিবোর্ড বাজিয়ে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। চরম অর্থনৈতিক সংকটের দিনগুলোতে না খেয়ে কাটানো কিংবা ভাড়া বাঁচাতে ফুটপাতের টংদোকানে রাত জাগার কঠিন অতীত পেরিয়ে তিনি আজ সফল সুরকার ও সংগীত পরিচালক। কথা হচ্ছে সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ
মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরের ইদ্রাকপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া নিরবের সংগীতে হাতেখড়ি তাঁর বাবা আনোয়ার হোসেনের কাছে। ২০০৫ সালে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য পৈতৃক ভিটেমাটি অধিগ্রহণ হয়ে গেলে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। ২০১২ সালে সংগীতে ভবিষ্যৎ গড়তে ঢাকায় আসেন নিরব। শুরুটা ছিল তীব্র অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার।
ঢাকার প্রথম জীবনে খাবার খরচ বাঁচাতে দিনে এক বেলা খেয়ে দিন পার করার কথা স্মরণ করে নিরব বলেন, "আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পাশের এক হোটেল থেকে ২৫-৩০ টাকায় ডিম, ভাত ও ডাল খেয়ে পুরো দিন কাটিয়ে দিতাম।" নারায়ণগঞ্জে মাত্র দেড়-দুই হাজার টাকা সম্মানীর শো শেষে ঢাকায় ফেরার চার-পাঁচশত টাকা রিকশা বা সিএনজি ভাড়া বাঁচাতে ভোর পর্যন্ত চাষাঢ়া মোড়ের টংদোকানে অপেক্ষা করতেন তিনি।
ভাগ্য বদলাতে শুরু করে ২০১৫ সালে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’-এ স্থায়ী কিবোর্ডিস্ট হিসেবে যোগ দেওয়ার পর। চিরকুটের সঙ্গে এক দশকের পথচলায় শত শত কনসার্ট, হাজারেরও বেশি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল, প্রায় ৫০টি ওয়েব প্রজেক্ট ও চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। ঈদে মুক্তি পাওয়া শাকিব খানের বহুল আলোচিত ‘রকস্টার’ সিনেমার সব কটি গানের সংগীত পরিচালনা ও আবহসংগীত করে নতুন করে আলোচনার শীর্ষে আসেন তিনি।
একসময় ভাড়া করা কিবোর্ড নিয়ে শো করতে যাওয়া নিরব কিবোর্ড বাজিয়েই সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী পেয়েছেন। একসময় ভিটেমাটি হারানো পরিবারের জন্য উপার্জনের টাকায় মুন্সিগঞ্জের পঞ্চসারে জমি কিনে দৃষ্টিনন্দন কাঠের দোতলা বাড়িও বানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নিজের তৈরি স্টুডিও ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’-এ নতুন নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই সংগীত পরিচালক।