ভারতের দক্ষিণী সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান। নিখুঁত অভিনয়ের জাদুতে তিনি যেমন মাতিয়েছেন তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, ঠিক তেমনি একসময় তুমুল ঝড় তুলেছিলেন বলিউডের হিন্দি বলয়েও। ১৯৭৪ সালে ‘আইনা’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তার পথচলা শুরু হলেও, ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘এক দুজে কে লিয়ে’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। এরপর একে একে ‘সনম তেরি কসম’, ‘ইয়ে তো কমাল হো গয়া’, ‘জ়ра সি জ়িন্দেগি’ এবং শ্রীদেবীর সঙ্গে কালজয়ী ‘সদমা’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমার দর্শকদের হৃদয়ে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেন। কিন্তু অবিশ্বাস্য সাফল্য আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়েননি এই তামিল তারকা। হিন্দি সিনেমার জাঁকজমক আর গ্ল্যামারাস দুনিয়া কেন তাকে ধরে রাখতে পারেনি, তা নিয়ে পরবর্তীকালে নিজেই মুখ খুলেছেন এই অভিনেতা, যেখানে উঠে এসেছে তৎকালীন মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু অন্ধকার ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কমল হাসান জানান, সেই সময়ে বলিউডের মূলধারার তারকাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে তার নিজস্ব যাপনের আকাশ-পাতাল তফাত ছিল। এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছিলেন, আশির দশকের সেই সময়টা ছিল সম্পূর্ণ অন্য রকম। হিন্দি ছবির তারকাদের তুলনায় তিনি নিজেকে বেশ দরিদ্রই মনে করতেন, এমনকি নিজের কাপড়ও তাকে নিজেকে ধুয়ে নিতে হতো। অপরদিকে বলিউডের প্রথম সারির তারকারা ছিলেন অত্যন্ত ধনী এবং তারা একসাথে ছ’টি করে ছবিতে কাজ করতেন, যা কমল হাসানের একদমই পছন্দ হতো না। তবে বলিউড থেকে এই দূরত্ব বজায় রাখার পেছনে কেবল জীবনযাত্রার বৈষম্যই একমাত্র কারণ ছিল না, বরং তৎকালীন মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর আন্ডারওয়ার্ল্ড বা অপরাধ জগতের কালো ছায়াও বড় ভূমিকা রেখেছিল। তখনকার হিন্দি সিনেমা জগতে কালো টাকার রমরমাই এই অভিনেতাকে সবচেয়ে বেশি ব্যথিত ও বিপর্যস্ত করেছিল।

অপরাধ জগতের এই সম্পৃক্ততা নিয়ে কমল হাসান স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সেই সময়ে বলিউডের ভেতরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সরাসরি যোগাযোগ ছিল, যার অংশ তিনি কোনোভাবেই হতে চাননি। তিনি তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, নিজের ক্যারিয়ারে কোনো ধরনের কালো টাকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না। নিজের সততা আর আদর্শে অটল থাকা এই অভিনেতা সাধারণ গাড়িতে চলাফেরা করেই সুখে ছিলেন, কোনো জাঁকজমকের মোহ তাকে টানেনি। মূলত নিজস্ব নীতি বজায় রাখতে এবং কালো টাকার অন্ধকার জগত থেকে দূরে থাকতেই বলিউডের মোহ ত্যাগ করে চেন্নাইয়ের চেনা আঙিনায় ফিরে যান এই গুণী অভিনেতা।