অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল, জনপ্রিয় ও কালজয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’। অতীতে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মুক্তি পাওয়া চারটি কিস্তিই বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে রাজত্ব করেছে। তবে এবার সব রেকর্ড ওলটপালট করে দিয়ে অ্যানিমেশনের দুনিয়ায় এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল এর পঞ্চম কিস্তি। বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র তিন দিনেই (ওপেনিং উইকেন্ড) বক্স অফিস থেকে ‘টয় স্টোরি ৫’ আয় করেছে রেকর্ড পরিমাণ ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি! মার্কিন বিনোদন মাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ডিজনি এবং পিক্সারের যৌথ অ্যানিমেশনের দীর্ঘ ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের (ওপেনিং উইকেন্ড) নতুন রেকর্ড। শুধু অ্যানিমেশনই নয়, চলতি বছরের হলিউডি সিনেমার বাজারেও এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেন্ড কালেকশনের সিংহাসনটি নিজের দখলে নিয়েছে ‘টয় স্টোরি ৫’। তিন দিনের এই বিশাল আয়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এসেছে ১৬০ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১৫২ মিলিয়ন ডলার। এর আগে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ ওপেনিং উইকেন্ডের রেকর্ডটি ছিল ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টয় স্টোরি ৪’ এর দখলে, যার তিন দিনের আয় ছিল ২৩৮ মিলিয়ন ডলার।

উত্তর আমেরিকার বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটির সবচেয়ে বড় ব্যবসা এসেছে মেক্সিকো থেকে, সেখানে প্রথম তিন দিনেই আয় হয়েছে ২৬.৬ মিলিয়ন ডলার। এরপর আয়ের তালিকায় শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য (২০ মিলিয়ন ডলার), চীন (১৮ মিলিয়ন ডলার) এবং ফ্রান্স (৭.২ মিলিয়ন ডলার)।

ডিজনি ও পিক্সার যৌথভাবে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজেটে নির্মাণ করেছে ‘টয় স্টোরি ৫’। তবে মুক্তির শুরুতেই ছবিটি বক্স অফিসে যেভাবে টাকার পাহাড় গড়তে শুরু করেছে, তাতে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা নিশ্চিত যে খুব জলদিই এটি ‘অল-টাইম ব্লকবাস্টার’ এর তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে। শুধু ব্যবসাই নয়, সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সিনেমা সমালোচক—সবার কাছ থেকেই ছবিটির গল্প ও অ্যানিমেশন শৈলী দারুণ ইতিবাচক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

এবারের ‘টয় স্টোরি ৫’ পরিচালনা করেছেন পিক্সারের প্রখ্যাত নির্মাতা অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন। এবারের গল্পের প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে একদম বর্তমান সময়ের এক কঠিন ও বাস্তব রূপকে কেন্দ্র করে, যেখানে আজকের শিশুরা অ্যানালগ খেলনার চেয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। সিনেমার গল্পে দেখা যায় উডি, বাজ লাইটইয়ার, জেসি এবং তাদের পুরো খেলনা দল এক নতুন এবং অদ্ভুত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কারণ, তাদের ছোট্ট মালিক বনি এখন আর আগের মতো খেলনা নিয়ে খেলে না, সে ‘লিলিপ্যাড’ নামের একটি নতুন কিডস স্মার্ট ট্যাবলেটের প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির এই আগ্রাসন থেকে বনিকে ফিরিয়ে আনার এক রোমাঞ্চকর মিশনই দেখা যাবে পর্দায়।

সিনেমাটিতে বরাবরের মতোই প্রিয় চরিত্রগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস, টিম অ্যালেন, গ্রিটা লি, কোনান ও’ব্রায়েন এবং শেলবি রাবারাসহ আরও অনেক তারকা।