ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে এক বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। নিজের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম বা টিভিকে-র সমাবেশে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় এবার সরাসরি সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি। আগামী সোমবার অর্থাৎ ১২ জানুয়ারি তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কারুরে থালাপতি বিজয়ের দলের প্রথম বিশাল জনসভা আয়োজিত হয়েছিল, যেখানে প্রিয় তারকাকে দেখতে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। ভিড়ের চাপে সেই সমাবেশে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে, যাতে নারী ও শিশুসহ ৪১ জনের করুণ মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত অক্টোবর মাসেই তদন্তের গতিপথ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং এনভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ঘটনার গভীরতা আঁচ করে এর তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেন। একই সাথে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অজয় রাস্তোগির নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে এমন আইনি জটিলতায় পড়া বিজয়ের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিবিআই মূলত খতিয়ে দেখতে চায় যে সেই দিনের বিশাল আয়োজনে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী কী ত্রুটি ছিল এবং আয়োজক দল হিসেবে টিভিকে-র ওপর ঠিক কতটা দায় বর্তায়। সমাবেশের অনুমতি এবং ভিড় সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল কিনা, সেসব বিষয়ই হবে তদন্তের মূল ভিত্তি।

আগামী সোমবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়ে থালাপতি বিজয়কে তাঁর দলের অবস্থান ও সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। এই জেরা এবং তদন্তের ফলাফল তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের নজর এখন ১২ জানুয়ারির সেই জিজ্ঞাসাবাদের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।