অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। প্রয়াণের দুই দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রয়াত অভিনেতা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এবার কালাজাদু প্রয়োগ এবং খাবারে বিষ মেশানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ‘আশিক বানায়া আপনে’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে সমালোচকদের উদ্দেশে তনুশ্রী বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর জীবন ধ্বংস করেছেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁকে ‘ইভিল ডেড’ বলায় এত ক্ষোভের কারণ কী? নিজের বক্তব্যের পক্ষে রাবণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাবণের মৃত্যুর হাজার হাজার বছর পরও প্রতিবছর তাঁর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। তনুশ্রীর ভাষ্য, তাঁর ধর্ম তাঁকে এভাবেই শিক্ষা দিয়েছে। তাঁর মতে, শয়তান জীবিত থাকলেও শয়তান, মৃত্যুর পরও শয়তান।

ভিডিওতে তনুশ্রী আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগেও নানা পাটেকরকে ঘিরে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। এ সময় নিজের ওপর দিয়ে যাওয়া মানসিক যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি মৃত্যুর পর আত্মার পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করে নানা পাটেকরকে কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তনুশ্রী। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত ও তাঁর সাবেক ব্যবস্থাপক দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। তনুশ্রীর প্রশ্ন, এসব মৃত্যু সত্যিই স্বাভাবিক ছিল, নাকি প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার কোনো চেষ্টা ছিল? তবে তাঁর এই সন্দেহের পক্ষে ভিডিওতে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি অভিনেত্রী।

এখানেই থেমে থাকেননি তনুশ্রী। নানা পাটেকর ও তাঁর সহযোগীরা অতীতে তাঁর ওপর কালাজাদু প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তাঁর বাড়িতে কাজের লোক পাঠিয়ে খাবারে ধীরে ধীরে বিষ মেশানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নানা পাটেকরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই দিন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। সেই অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাঁর মৃত্যুর পরও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তনুশ্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তোলা কালাজাদু, বিষ প্রয়োগ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহের অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।