উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের জন্য প্রায়ই আলোচনায় থাকেন বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। দামি প্রসাধনী কিংবা জটিল রূপচর্চার বদলে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করেন তিনি। আর এই অভ্যাসের শুরু ছোটবেলায়, মায়ের হাত ধরে।
অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে নিয়মিত মেকআপ, চুলের স্টাইলিং ও বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিত তামান্নার। সে সময় ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দেন তাঁর মা। এরপর থেকেই সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে রূপচর্চার অভ্যাস গড়ে ওঠে অভিনেত্রীর।
২০২২ সালে ‘ভোগ ইন্ডিয়া’র একটি ভিডিওতে নিজের রূপচর্চার অভ্যাসের কথা জানিয়েছিলেন তামান্না। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে অনুসরণ করা কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি এখনো তাঁর দৈনন্দিন রূপচর্চার অংশ। চন্দন, কফি, মধু, বেসন, দই ও গোলাপজলের মতো উপাদান ব্যবহার করেন তিনি।
তামান্নার মতে, সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে রূপচর্চার উপকরণ বেছে নেওয়া জরুরি। কোনো উপাদান ব্যবহারের পর ত্বক শুষ্ক মনে হলে মিশ্রণে মধুর পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে চন্দনের গুঁড়া, কফি ও মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করেন তামান্না। মিশ্রণটি চোখের চারপাশ এড়িয়ে মুখে আলতোভাবে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন তিনি। এতে ত্বক মসৃণ অনুভূত হয় বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে কফির দানাদার উপাদান মুখের সংবেদনশীল ত্বকে ঘর্ষণ, জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই মুখে এ ধরনের স্ক্রাব ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ত্বক সতেজ রাখতে গোলাপজল, বেসন ও ঠান্ডা দই মিশিয়ে ফেসপ্যাকও তৈরি করেন তামান্না। ছোটবেলায় তাঁর ত্বকে সহজেই জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতো। সে সময় বেসন ও দই ব্যবহার করতেন তিনি। এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। আবার ব্যস্ততার দিনে স্ক্রাবের বদলে শুধু গোলাপজল ব্যবহার করেও ত্বকের যত্ন নেন এই অভিনেত্রী।
বছরের পর বছর ধরে তামান্নার রূপচর্চার অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এলেও মূল ভাবনায় পরিবর্তন আসেনি। অপ্রয়োজনে প্রসাধনীর ব্যবহার না বাড়িয়ে ত্বকের প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়াকেই গুরুত্ব দেন তিনি।
তবে তামান্নার ব্যক্তিগত রূপচর্চার অভিজ্ঞতা সবার জন্য সমান কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রাকৃতিক উপাদান থেকেও অ্যালার্জি, জ্বালা বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।