১৯৮৫ সালে দেব আনন্দের ‘হাম নওজোয়ান’ সিনেমায় কিশোরী চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেছিলেন টাবু। এরপর পেরিয়ে গেছে চার দশকেরও বেশি সময়। বয়স বাড়লেও অভিনয়ের বৈচিত্র্য ও পর্দায় উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন এই অভিনেত্রী। ৪ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন।
হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া টাবুর আসল নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছে ও মামাবাড়িতে বেড়ে ওঠেন তিনি। মা ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা। শৈশব থেকেই অন্তর্মুখী স্বভাবের টাবুর সঙ্গী ছিল বই। ‘বাজার’ সিনেমায় শিশু চরিত্রে অভিনয়ের পর ‘হাম নওজোয়ান’-এ দেখা যায় তাঁকে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘মাচিস’, ‘হু তু তু’, ‘অস্তিত্ব’, ‘চাঁদনি বার’, ‘মকবুল’, ‘হায়দার’, ‘দৃশ্যম’ ও ‘গোলমাল এগেইন’-এর মতো সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন টাবু। গুলজার, জে পি দত্ত, মণিরত্নম, সুরজ বরজাতিয়া, ডেভিড ধাওয়ান ও বিশাল ভরদ্বাজের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ করেছে তাঁর ক্যারিয়ার।
নিজের অভিনীত চরিত্রগুলোকে আলাদা করে দেখেন টাবু। ‘হু তু তু’-এর মালতি, ‘অস্তিত্ব’-এর আশা, ‘মকবুল’-এর নিজামি এবং ‘হায়দার’-এর গজনি তাঁর পছন্দের চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। ‘গোলমাল এগেইন’-এর মতো কমেডি সিনেমায় অভিনয় করেও দর্শকদের নতুনভাবে চমকে দিয়েছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন টাবু। নিয়মিত ডায়েরি লিখলেও সেগুলো প্রকাশের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। বাবার সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় তাঁর পদবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের কথাও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
২০২৩ সালে বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত নেটফ্লিক্সের ওয়েব ফিল্ম ‘খুফিয়া’তে আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন টাবু। চার দশকের বেশি সময় ধরে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে বলিউডের অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।