সুস্মিতা সেন বা রাবিনা ট্যান্ডনের মতো বলিউডের অনেক অভিনেত্রীই বিয়ের আগেই সন্তান দত্তক নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই পথেই হেঁটেছেন দক্ষিণ ভারতের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা। মাত্র ২১ বছর বয়সে অবিবাহিত অবস্থায় তিনি মাতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা তাঁর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই ব্যক্তিগত জীবনের একটি মানবিক দিক সবার সামনে অত্যন্ত সততার সাথে তুলে ধরেছেন।
শ্রীলীলার এই সফরের শুরু হয় ২০২২ সালে যখন তিনি গুরু এবং শোভিতা নামের দুই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুকে দত্তক নেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তিনি আরও একটি কন্যা সন্তানকে নিজের পরিবারের অংশ করে নেন। বর্তমানে তিনি তিন সন্তানের মা হলেও তারা তাঁর সাথে থাকে না, বরং একটি আশ্রমে থাকে। তবে শ্রীলীলা নিয়মিতভাবে তাঁদের খোঁজখবর রাখেন, ফোনে কথা বলেন এবং প্রায়ই দেখা করতে যান যা তাঁর দায়িত্বশীলতারই পরিচয় দেয়।
এই শিশুদের সাথে তাঁর পরিচয়ের প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো এবং আবেগঘন। ২০১৯ সালে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সিনেমা কিস-এর শুটিং চলাকালীন পরিচালক তাঁকে একটি আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি এই শিশুদের সাথে প্রথম দেখা করেন এবং তাঁদের প্রতি মায়া জন্মে যায়। দীর্ঘদিন পর্যন্ত তিনি এই বিষয়টি সবার আড়ালে রেখেছিলেন কারণ তিনি একে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাননি।
সাক্ষাৎকারে শ্রীলীলা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানিয়েছেন যে তিনি নিজেকে প্রচলিত অর্থে মা হিসেবে দাবি করতে চান না কারণ মা হওয়া অনেক বড় একটি সাধনার বিষয়। তিনি কেবল চেয়েছিলেন অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের জীবনের ভার নিতে। সংস্থাটির অনুরোধেই তিনি এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন যাতে সাধারণ মানুষও অনাথ শিশুদের দত্তক নিতে উৎসাহিত হয় এবং সমাজের অবহেলিত শিশুদের কথা ভাবতে শুরু করে।
শ্রীলীলা শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীই নন, তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ শিল্পীও। ২০১৭ সালে চিত্রাঙ্গদা সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় জগতে তাঁর অভিষেক ঘটে এবং তিনি ভরতনাট্যমেও বেশ পারদর্শী। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং ইতিমধ্যেই এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ভাগ্যের জোড়ে পর্দায় এলেও বাস্তব জীবনে তাঁর এই মানবিক কাজ তাঁকে দর্শকদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।