ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ তারকা শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবন মানেই যেন এক অন্তহীন রহস্য আর নাট্যমঞ্চ। বিশেষ করে বিয়ে এবং সন্তানকে কেন্দ্র করে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঢাকাই চলচ্চিত্রাঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ দর্শকদের মাঝেও তৈরি করেছে তুমুল কৌতুহল ও বিতর্ক। সম্প্রতি চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁদের ঘরে নতুন কন্যাসন্তান আসার খবর সামনে আসার পর এই চর্চা এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। অপুর পর বুবলী কেন বারবার সন্তানের প্রসঙ্গে একই চিত্রনাট্য ফিরে আসছে শাকিবের জীবনে, তা নিয়ে শোবিজ দুনিয়ায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সন্তান লুকিয়ে রাখা এবং পরবর্তীতে নায়িকাদের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস হঠাৎ কোলে সন্তান আব্রাম খান জয়কে নিয়ে একটি বেসরকারি টিভির লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হন। সেখানেই প্রথম জানা যায় শাকিব-অপুর দীর্ঘদিনের গোপন বিয়ে ও সন্তানের খবর। শুরুতে শাকিব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরবর্তীতে সন্তানকে বুকে টেনে নেন। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বুবলীর প্রথম সন্তান শেহজাদ খান বীরের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘ সময় সন্তান ও আমেরিকার যাতায়াত গোপন রাখার পর বুবলী নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে শাকিবের সঙ্গে তাঁর সন্তান ও সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। সেবারও শাকিব খান বীরকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এবার গত ৫ জুন বুবলী তাঁর ফেসবুক হ্যান্ডেলে শাকিব খানকে ট্যাগ করে এক নতুন কন্যাসন্তানের মা হওয়ার ঘোষণা দেন। বুবলী সরাসরি শাকিবকে এই কন্যার পিতা দাবি করলেও, ঘোষণার চার দিন পার হয়ে গেলেও শাকিব খান মুখে কুলূপ এঁটে আছেন। এই রহস্যময় নীরবতাই এখন টক অব দ্য টাউন।
এই নতুন সন্তানের খবরে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ডালপালা মেলছে, তা হলো শাকিব ও বুবলীর বর্তমান সম্পর্ক। বীরের জন্মের পর থেকেই শাকিব ও বুবলীর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। শাকিব একাধিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বুবলী তাঁর ‘অতীত’ এবং তাঁদের মধ্যে কোনো বৈালিক সম্পর্ক অবশিষ্ট নেই। এমনকি বুবলীকে ডিভোর্স দেওয়ার দাবিও করেছেন এই নায়ক। যদি শাকিবের দাবি অনুযায়ী তাঁদের সম্পর্ক অনেক আগেই শেষ হয়ে থাকে, তবে বুবলীর সাম্প্রতিক কন্যাসন্তানের ঘোষণার নেপথ্যে আসল সত্য কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধোঁয়াশা। আর এখানেই শাকিবের নীরবতা এক বড় রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। তিনি কি বুবলীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করবেন, নাকি অতীতের মতো কিছুদিন পর কোনো এক শুভক্ষণে কন্যাকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন তা নিয়ে শাকিব ভক্ত ও সাধারণ মানুষের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, শাকিব খান ঢাকাই সিনেমার শুধু একজন শীর্ষ নায়কই নন, তিনি নিজেই একটি বড় ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান। অনেক সময় নিজের স্টারডম, ক্যারিয়ার এবং সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর যেন প্রভাব না পড়ে, সেই আশঙ্কায় তিনি ব্যক্তিগত জীবনকে পর্দার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু বারবার নারীদের মাধ্যমে তাঁর জীবনের এই গোপন অধ্যায়গুলো জনসমক্ষে চলে আসায় শাকিবের ইমেজ যেমন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তেমনি এটি মুখরোচক বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে। শোবিজ দুনিয়া এবং শাকিব অনুরাগীরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন কিং খানের অফিশিয়াল বিবৃতির দিকে। এই নীরবতা ভাঙলেই কেবল অবসান ঘটবে সব জল্পনা-কল্পনার।