নয় বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া অভিনেত্রী ও মডেল সোনিকা চৌহানের মৃত্যু মামলায় আলিপুর আদালতে সাক্ষ্য দিতে হাজির হন অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য। আদালত থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অপেক্ষা এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। 

সাহেব জানান, দীর্ঘ ৯ বছর পর এই মামলায় প্রথমবার তাঁকে ডাকা হয়েছে এবং তিনি যা যা জানেন তা মহামান্য আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন। তবে মামলার অগ্রগতির পাশাপাশি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, "খুব কাকতালীয়ভাবে এ বছর সরকার বদল হলো, তারপর থেকেই হঠাৎ করে মামলার শুনানি পরপর শুরু হয়েছে। এত বছর কোনো অগ্রগতি ছিল না, এখন অন্তত মনে হচ্ছে বিষয়টায় গতি এসেছে।"

দুর্ঘটনার সময়ের কথা স্মরণ করে সাহেব আরও বলেন, "আগের সরকারের ভীষণ স্নেহভাজন ছিল বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। বাকিটা মানুষ বুদ্ধিমান, তাঁরা বুঝে নেবেন।" সোনিকার পরিবারের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগঘণ কণ্ঠে বলেন, সোনিকার বাবা-মা আজও এই লড়াই ছাড়েননি এবং একজন মা আজও মেয়ের সমাধির ফুল শুকোতে দেন না। বিচার পেলে সেই ভাঙা পরিবারটির কিছুটা হলেও শান্তি হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে রাসবিহারী কানেক্টর এলাকায় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের চালিত গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে গাড়িতে থাকা ২৭ বছর বয়সী সোনিকা চৌহান মারা যান। সেই ঘটনায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ অবহেলার কারণে মৃত্যুর মামলা দায়ের হয় বিক্রমের বিরুদ্ধে। সোনিকা ও সাহেবের সঙ্গে সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়।