বাংলা চলচ্চিত্রে শৈল্পিক গল্প বলার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে Roid। নির্মাতা Mezbaur Rahman Sumon পরিচালিত এই সিনেমা একদিকে যেমন গ্রামীণ জীবনের গল্প বলে, অন্যদিকে ধর্মীয় রূপক, লোকজ পুরাণ এবং মানবমনের জটিল অনুভূতির এক গভীর জগৎ নির্মাণ করে।
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র সাধু ও পাগলি। সাধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন Mostafizur Noor Imran এবং পাগলি চরিত্রে দেখা গেছে Nazifa Tushiকে। গ্রাম্য জীবনের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেম, প্রত্যাখ্যান, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের জটিল এক যাত্রায়।
গল্পের শুরুতেই দর্শক বুঝতে পারেন, ‘রইদ’ সরল কোনো বাস্তবধর্মী সিনেমা নয়। এখানে ঘোড়া, ছাগল, গরু, মহিষ, ব্যাঙ কিংবা কবুতরের মতো প্রাণীরাও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পাগলির প্রিয় ছাগল ‘কুলসুম’ চলচ্চিত্রের আবেগ ও প্রতীকের গুরুত্বপূর্ণ বাহক হয়ে ওঠে।
সিনেমাটির অন্যতম শক্তি এর রূপকধর্মী নির্মাণ। অ্যাডাম-ইভ, মাতা মেরি কিংবা নোয়ার নৌকার মতো ধর্মীয় ও পৌরাণিক অনুষঙ্গ গল্পের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে। তবে নির্মাতা এসব বিষয় সরাসরি ব্যাখ্যা না করে দর্শকের নিজস্ব ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন।
চিত্রগ্রহণ ‘রইদ’-এর সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি। চিত্রগ্রাহক Joaher Musavvir Jyoti রাতের দৃশ্য, লো-লাইট শট, বৃষ্টি, আগুন এবং বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশকে অসাধারণ দক্ষতায় পর্দায় তুলে এনেছেন। কাশবন, নদী, পাহাড় ও রুক্ষ প্রান্তরের দৃশ্যগুলো যেন এক আদিম পৃথিবীর অনুভূতি তৈরি করে।
অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি সমৃদ্ধ। নাজিফা তুষি ‘পাগলি’ চরিত্রে রহস্য, সরলতা ও গভীর আবেগকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করেছেন। অনেকের মতে, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। অন্যদিকে মোস্তাফিজুর নূর ইমরানও সাধু চরিত্রের পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থাকে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সম্পাদনায় Sajal Alok ও আল মামুনের কাজ এবং আবহসংগীতে Rashid Sharif Shoeb-এর অবদান সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে শেষ অংশে সংগীত ও দৃশ্যের সমন্বয় দর্শককে গভীর আবেগে ডুবিয়ে দেয়।
কিছু দৃশ্যে পুনরাবৃত্তি এবং কয়েকটি চরিত্রের হঠাৎ গুরুত্ব হারানো ছাড়া বড় কোনো দুর্বলতা চোখে পড়ে না। সব মিলিয়ে ‘রইদ’ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য শৈল্পিক বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছে।