মা হওয়ার পর জনসমক্ষে এসে শারীরিক গঠন নিয়ে অনলাইন ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রোলারদের কড়া সমালোচনা করলেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। তাঁর মতে, ক্যাটরিনা কাইফ কিংবা ঐশ্বরিয়া রাইয়ের মতো তারকাদের নিয়ে কটূক্তি করে কিছু মানুষ নিজেদের জীবন ভালো করার চেষ্টা করেন। অথচ এসব মন্তব্যের কোনো অর্থ নেই।
২০২৪ সালে মা হয়েছেন রিচা নিজেও। মাতৃত্বের পাশাপাশি পেশাগত জীবন সামলানো নারী অভিনেত্রীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পে মা হওয়া অভিনেত্রীদের সাধারণত সম্মানের চোখেই দেখা হয়। বরং সমাজের একটি অংশের মানসিকতাই এ ধরনের ট্রোলিংয়ের জন্য দায়ী।
‘ক্যাটরিনাকে নিয়ে মন্তব্য করলেই জীবন সুন্দর হয় না’
ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিচা চাড্ডা বলেন, নারীদের শারীরিক গঠন নিয়ে অন্যের মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। মাধুরী দীক্ষিত, জুহি চাওলা, রানি মুখার্জি ও সোনালি বেন্দ্রের মতো অভিনেত্রীরা মাতৃত্বের পাশাপাশি নিজেদের পেশাগত জীবনও সামলেছেন। তাঁদের প্রতি চলচ্চিত্রশিল্পে যথেষ্ট সম্মান রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রিচার ভাষায়, ভারতের সাধারণ মানুষের একটি অংশ নিজেদের চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়েও অসন্তুষ্ট থাকেন। অথচ তাঁরাই ক্যাটরিনা কাইফ কিংবা ঐশ্বরিয়া রাইকে নিয়ে কটূক্তি করেন। এসব মন্তব্য করে নিজেদের জীবন ভালো হয়ে যাবে, এমন ধারণাকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।
এ ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যকে গণমাধ্যমে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন রিচা। তাঁর মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন ও শরীর নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা কমানো উচিত।
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে বেপরোয়া করেছে’
চলচ্চিত্রশিল্পের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে রিচা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ পেয়ে অনেকে তারকাদের লক্ষ্য করে কটূক্তি করার সাহস পান। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করেই তাঁরা অন্যদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
রিচার মতে, যাঁরা নিজেরা জীবনে তেমন কিছু অর্জন করতে পারেননি, তাঁদের একাংশও খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন। মিস ওয়ার্ল্ড কিংবা মিস ইউনিভার্সের মতো আন্তর্জাতিক খেতাবজয়ী নারীদের নিয়েও তাঁদের কটূক্তি করতে দেখা যায়।
এ ধরনের আচরণের প্রতিবাদ করে রিচা বলেন, ট্রোলারদের মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করাই ভালো। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় আড়াল করে কাউকে আক্রমণ করলেই তা বড় কোনো অর্জন হয়ে যায় না।
ট্রোলিং নিয়ে কী বলেছিলেন ক্যাটরিনা?
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে একটি অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন ক্যাটরিনা কাইফ। নেতিবাচক মন্তব্য যেন আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদায় প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ক্যাটরিনা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের তৈরি করা বয়ানের কারণে নিজের আত্মমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া উচিত নয়। সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করলে নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্যাটরিনা জানান, প্রতিটি সমালোচনা বা মন্তব্যের ভিত্তিতে যদি তিনি নিজের কাজকর্ম বদলাতেন, তাহলে হয়তো ভয়ে থমকে যেতেন এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।
তিনি আরও বলেন, “কখনো পুরো পৃথিবী আপনাকে উদ্যাপন করবে, আবার কখনো আপনাকেই নিজের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে উঠতে হবে।”