২০২৩ সালের ঈদুল আজহার ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’-এর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় কিস্তি ‘সুড়ঙ্গ ২’ নিয়ে বছরের একেবারে শেষ প্রান্তে বড় পর্দায় ঝড় তুলতে আসছেন হালের ক্রেজ নির্মাতা রায়হান রাফী। গত ১২ জুন সিনেমাটির দেড় মিনিটের একটি টানটান অ্যানাউন্সমেন্ট ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন নির্মাতা।

ঘোষণায় জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বর মাসেই পুরোদস্তুর অ্যাকশন অবতারে ওটিটি ও ঢালিউড মেগাস্টার আফরান নিশোকে সঙ্গে নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হবেন ‘পরাণ’ খ্যাত এই নির্মাতা। তবে এবারের এই প্রত্যাবর্তনে আরও বড় এক চমক রয়েছে; এই সিনেমার মাধ্যমেই মূলত ঢালিউডে অফিশিয়ালি ও বড় পরিসরে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘রায়হান রাফী ফিল্ম ইউনিভার্স’। যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, কেননা এর আগে দেশের কোনো নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব এমন ‘ফিল্ম ইউনিভার্স’ তৈরি করার সাহস দেখাননি। এই বিশেষ ‘ইউনিভার্স’ নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন রাফী।

রাফী স্পষ্ট করে বলেন, “পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। তবে ‘সুড়ঙ্গ’ এত সফল একটি জার্নি ছিল এবং এটি নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এত বেশি যে, আমি কিছুটা সময় নিতে চাচ্ছিলাম। মূলত আমার ‘তাণ্ডব’ সিনেমার কাজের সময় আমি প্ল্যান করি, একটি ফিল্ম ইউনিভার্স ক্রিয়েট করব। অবশ্যই বাংলাদেশে এটি করা বেশ ডিফিকাল্ট; কারণ আমাদের এখানে কাস্টিং বা আর্টিস্ট সংকট আছে, লিড রোলে অভিনয় করার মতো অভিনেতা-অভিনেত্রী কম। আর একটি প্রপার ইউনিভার্স ক্রিয়েট করতে অনেক বৈচিত্র্যময় অভিনেতা-অভিনেত্রী লাগে।”

তাহলে এমন কঠিন ও জটিল স্বপ্ন দেখার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে রাফী বলেন, “বাংলা ছবিকে বৈশ্বিক মঞ্চে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই আমি এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছি। সেই পরিকল্পনা থেকেই মূলত ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘তাণ্ডব’ সিনেমার গল্পকে মিক্সড বা ক্রসওভার করা এবং এর ফলশ্রুতিতে আমরা ‘সুড়ঙ্গ ২’ নিয়ে আসছি। এখানে প্রথম পর্বের মূল চরিত্র ‘মাসুদ’ এখন কোথায়, কী করছে এবং কীভাবে সে ওই রকম এক অন্ধকার জায়গায় গেল, দর্শক এবার রূপালি পর্দায় সেই রহস্যেরই জট খোলার গল্প দেখতে পাবে।”

এই ‘ফিল্ম ইউনিভার্স’ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের পরিধি কতখানি? এমন প্রশ্নের জবাবে রাফী বলেন, “স্বপ্ন তো আসলে অনেক বড়। আমার এই ইউনিভার্স নিয়ে অবশ্যই অনেক দূর যেতে চাই। দেখা যাক কী হয়! আপাতত ‘সুড়ঙ্গ ২’ আসুক, তারপর হয়তো এর পরের পার্ট আসবে। তো আপাতত ‘সুড়ঙ্গ ২’ নিয়ে এক্সাইটেড; তবে সামনে আরও একটা সিনেমার দ্বিতীয় কিস্তি (টু) আসার সম্ভাবনা আছে, সেটা দর্শকদের খুব তাড়াতাড়ি সারপ্রাইজ হিসেবে বলব।”

যেহেতু ‘সুড়ঙ্গ ২’-এর গল্পের সঙ্গে ‘তাণ্ডব’-এর সরাসরি সংযোগ রয়েছে, সেক্ষেত্রে দর্শক মনে প্রশ্ন এসেই যায় তবে কি এই ছবিতে শাকিব খান কিংবা সিয়াম আহমেদের মতো তারকাদের দেখা যাবে? রাফী অবশ্য জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট করে বললেন, ‘গল্পের সংযোগ আর আর্টিস্টের সংযোগ সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। এখানে গল্পের সংযোগ থাকবে, কিন্তু শাকিব খানের থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

টানা চার ঈদে চারটি সফল সিনেমা উপহার দিয়ে বক্স অফিস মাতিয়েছেন রাফী। কিন্তু এবারের কোরবানির ঈদে তাঁর কোনো নতুন ছবি প্রেক্ষাগৃহে আসেনি, যা নিয়ে ভক্ত ও হল মালিকদের মাঝে বড়সড় একটা অপূর্ণতা তৈরি হয়েছে। তবে দর্শকদের আশ্বস্ত করে এই নির্মাতা বলেন, “এবার কোরবানি ঈদে দর্শক আমাকে হলে মিস করেছে, সেজন্যই বছরের শেষে বড় ধামাকা দিতে চাই। যেহেতু নতুন এবং এত বড় একটি মেগা প্রজেক্ট নিয়ে আসছি, সেটার প্রস্তুতির জন্য কোরবানির ঈদে আমাকে গ্যাপ দিতেই হয়েছে। ব্যাক টু ব্যাক চারটা কোরবানিতে আমার চারটা ছবিই ব্লকবাস্টার হয়েছিল। আমি এবার অন্য ছবি দেখতে হলে গিয়েছিলাম, অথচ দর্শক আমাকে দেখেই বলছিল, ‘ভাই আপনাকে মিস করছি’। আশা করি বছরান্তে ‘সুড়ঙ্গ ২’ দিয়ে তাদের এই কষ্ট এক নিমেষে মুছে যাবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি ও আলফা আইয়ের যৌথ প্রযোজনায় দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছিল ‘সুড়ঙ্গ’। এই সিনেমার মাধ্যমেই ছোট পর্দা ও ওটিটির তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোর বড় পর্দায় রাজকীয় অভিষেক ঘটেছিল এবং প্রথম সিনেমাতেই ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। সিনেমাটিতে নিশোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলেন তমা মির্জা, মোস্তফা মনওয়ার, শহীদুজ্জামান সেলিম প্রমুখ। ‘সুড়ঙ্গ ২’-তে নিশো তো প্রধান লুকে থাকছেনই, তবে তাঁর সঙ্গে নতুন করে কারা যোগ দিচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি মুখ খোলেননি নির্মাতারা। তবে অ্যানাউন্সমেন্ট ভিডিওতে নিশোর বলা ভারী সংলাপ শুনেই দর্শক এখন থেকেই সিনেমাটি দেখার জন্য কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছেন।