অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কখনও রোম্যান্টিক নায়ক, কখনও রকস্টার, আবার কখনও চিকিৎসক প্রতিটি চরিত্রেই নতুনভাবে হাজির হয়েছেন তিনি। তবে এত চরিত্রে অভিনয়ের পরও নতুন কিছু করার আগ্রহ কমেনি এই অভিনেতার।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৬৪ বছরে পা দিয়েছেন কলকাতার সিনেমার ‘পোস্টার বয়’ প্রসেনজিৎ। জন্মদিনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চরিত্র বাছাই ও নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
নতুন চরিত্র বাছাই প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘এত চরিত্র করে ফেলেছি। এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব!’ তাঁর মতে, নিজেকে ভাঙারও একটা সীমা রয়েছে। তাই এমন চরিত্র খুঁজে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে, যা আগে করেননি।
অভিনেতার কথায়, ‘খুবই কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে। সহজে আর এ রকম চরিত্র আসছে না, যা আগে করিনি। ভাঙাচোরারও তো একটা সীমা আছে।’
তবে নতুন কিছু করার ইচ্ছা এখনও রয়েছে তাঁর। প্রসেনজিৎ জানান, বছরে দুটি ছবি বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে করতে চান। পাশাপাশি আরও এক-দুটি ছবিতে এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যেখানে দর্শক তাঁকে একেবারে ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন।
এখনও কিছু স্বপ্নের চরিত্র রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে ‘দ্য গডফাদার’ এ মার্লন ব্র্যান্ডোর চরিত্রটি করার ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘গডফাদারে মার্লন ব্র্যান্ডোর চরিত্রটা করার ইচ্ছা আছে!’ অথবা সেই ধাঁচের কোনো শক্তিশালী চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান তিনি।
একসময় রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন প্রসেনজিৎ। সেই ঘরানায় ফিরতে আপত্তি না থাকলেও পুরোনো ধরনের চরিত্রে ফিরতে চান না তিনি। রোম্যান্টিক গল্প হলেও সেখানে নতুনত্ব থাকা জরুরি বলে মনে করেন অভিনেতা।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ডাক্তার কাকু’ নিয়েও আশাবাদী প্রসেনজিৎ। তাঁর দাবি, ছবিটির চরিত্রটি আগের অনেক কাজের তুলনায় আলাদা। তাই চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে বাড়তি যত্ন নিয়েছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলা সিনেমাকে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও ভাবছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর মতে, শুধু মাল্টিপ্লেক্সনির্ভর হলে হবে না; সাধারণ সিনেমা হলের দর্শকদেরও আবার হলমুখী করতে হবে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নানা ধরনের কাজ হলেও সেই সিনেমাগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।