ওয়ার্নার ব্রাদার্সের 'ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার' ২০২৬ সালে এক নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এই ছবিটি ন্যাশনাল বোর্ড অফ রিভিউ, ক্রিটিকস চয়েস, দ্য গথামস এবং ন্যাশনাল সোসাইটির মতো প্রধান সব সমালোচক পুরস্কার জিতে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে। পল থমাস অ্যান্ডারসনের পরিচালনায় এটি চলচ্চিত্র শিল্পে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই সিনেমাটি আজকের সমাজ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক বাস্তবধর্মী প্রতিফলন। এতে দেখানো হয়েছে কীভাবে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করছে, যা আমাদের বর্তমান সামাজিক মনস্তত্ত্বকে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্রায়নটিকে শিল্প বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসনের সৃজনশীল দক্ষতার ছাপ ছবিটির পরতে পরতে লক্ষ্য করা গেছে। যদিও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে সিনেমার নির্দিষ্ট কিছু অংশে গল্পের গতি ছিল কিছুটা অতিরিক্ত তড়িঘড়ি করা, তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম হিসেবে টিকে থাকবে। সমালোচকদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আকর্ষণ করার পেছনে এর নির্মাণশৈলী এবং গভীর ভাবনার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
মজার বিষয় হলো, সমালোচকেরা ছবিটিকে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দিলেও সাধারণ দর্শকদের কাছে এটি ততোটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। দর্শকেরা বরং ‘সিনার্স’ এবং ‘হ্যামনেট’–এর মতো ছবিগুলোকে বেশি পছন্দ করেছেন। এই বৈপরীত্যের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো যে শিল্পমান এবং জনরুচি সবসময় একই পথে হাঁটে না।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সিনেমার সত্যিকারের বিকাশের জন্য সমালোচকদের প্রশংসার পাশাপাশি দর্শকদের অভিরুচিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ দর্শকরাই শেষ পর্যন্ত সিনেমা হলের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেন। 'ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার' তাই শিল্পের উৎকর্ষতা এবং দর্শক চাহিদার মধ্যে এক বড় তর্কের জন্ম দিয়েছে।