সাফল্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আজ অনেকেই করতালি দিচ্ছেন। কিন্তু এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না নীলা এর জন্য। জীবনের কঠিন সময়, সংগ্রাম আর অসংখ্য কটূক্তি পেরিয়েই তিনি পৌঁছেছেন এই অবস্থানে।

সম্প্রতি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারজয়ের পর নিজের দীর্ঘ পথচলার নানা অজানা গল্প শেয়ার করেন তিনি। নীলা জানান, তার এই অর্জনে স্বামী, মা, শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই ভীষণ আনন্দিত। এমনকি স্বামী মজা করে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘অ্যাওয়ার্ডকে খাওয়াচ্ছি কি না, অ্যাওয়ার্ড নিয়ে ঘুমাচ্ছি কি না!’ পরিবারের এই ভালোবাসাই তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে।

মডেলিং দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু হলেও অভিনয়ে আসার পেছনে ছিল কৌতূহল। প্রথমে খুব ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেই দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আত্মবিশ্বাস পান। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর হয়।

তবে নীলার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল বাবার অসুস্থতা। তখন তার বয়স মাত্র ১৭। বাবার আইসিইউর বিল মেটানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। সেই সময় সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে আসেন তিনি। অনলাইনে জামাকাপড় বিক্রি করেছেন, লাইভ করেছেন, মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ শিখেছেন।

এই পথচলায় তাকে কম কটূক্তি শুনতে হয়নি। অনেকে বলতেন, "ও, জামাকাপড় বিক্রি করে আসছে, ওকে দিয়ে আর কী হবে!" কিন্তু এসব কথায় থেমে যাননি তিনি। বরং সেই কাপড় বিক্রির টাকাতেই বাবার আইসিইউর বিল পরিশোধ করেছিলেন। সংগ্রামের সেই দিনগুলোই তাকে আরও শক্ত করে গড়ে তুলেছে।

নীলা বিশ্বাস করেন, যোগ্যতা আর কঠোর পরিশ্রমই মানুষকে এগিয়ে নেয়। নারী হিসেবে নয়, নিজের মেধা ও দক্ষতার কারণেই আজ তিনি বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছেন। তার কাছে টিকে থাকার একটাই মন্ত্র নিরন্তর শেখা আর কঠোর পরিশ্রম।

ভবিষ্যতে তিনি বেছে বেছে কাজ করতে চান। বছরে হাতে গোনা কয়েকটি ভালো গল্পের নাটকে অভিনয় করাই তার পরিকল্পনা। কারণ, তার লক্ষ্য আরও বড় একদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা বড় পর্দায়।