দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তামিল, তেলুগু ও মালয়ালম সিনেমায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে ভারতের অন্যতম সফল ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন এই তারকা।
তবে নয়নতারার ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল বেশ সাধারণ। অভিনয়ে আসার আগে মডেলিং দিয়ে পেশাজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। আর সেই সময়ের একটি কাজের জন্য প্রথম পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার রুপি।
সম্প্রতি অভিনেত্রী ও সঞ্চালক পার্ল মানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন নয়নতারা। প্রথম কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটি সম্ভবত ভানিথা ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের জন্য করা একটি ফটোশুটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পাশাপাশি একটি ফ্যাশন অনুষ্ঠানেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সেই কাজের পারিশ্রমিক কত ছিল, জানতে চাইলে নয়নতারা জানান, আনুমানিক ২ থেকে ৩ হাজার রুপি পেয়েছিলেন তিনি। একই আলাপচারিতায় পার্ল মানিও নিজের প্রথম উপার্জনের মজার একটি ঘটনা শেয়ার করেন। তিনি জানান, বাবার নখ কেটে দেওয়ার জন্য প্রথমবার ৫০০ রুপি পেয়েছিলেন।
মডেলিং থেকেই অভিনয়ে
নয়নতারা শুরুতে অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। তবে মডেলিংয়ের সময় ভানিথা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তার একটি ছবি পরিচালক সত্যন অন্তিকাডের নজরে আসে। এরপর তিনি নয়নতারাকে তার সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন।
সেই সুযোগই বদলে দেয় তার ক্যারিয়ারের গতিপথ। ২০০৩ সালে মালয়ালম সিনেমা ‘মনসিনাক্কারে’র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নয়নতারার। সিনেমাটিতে গৌরী চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া পায় এবং নতুন অভিনেত্রী হিসেবে নজর কাড়েন নয়নতারা।
এরপর ‘বিস্ময়থুম্বাথু’ ও ‘নাট্টুরাজাভু’র মতো মালয়ালম সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। ২০০৫ সালে ‘আয়্যা’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক হয় নয়নতারার। একই বছর রজনীকান্তের সঙ্গে ‘চন্দ্রমুখী’তে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। সিনেমাটির বড় সাফল্যের পর তার জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়তে থাকে।
‘লেডি সুপারস্টার’ হয়ে ওঠার গল্প
এরপর তামিল, তেলুগু ও মালয়ালম ভাষার সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন নয়নতারা। ‘বিল্লা’, ‘ইয়ারাদি নী মোহিনী’, ‘শ্রী রাম রাজ্যম’, ‘রাজা রানি’, ‘মায়া’, ‘নানুম রাউডি ধান’, ‘আরাম’ ও ‘কোলামাভু কোকিলা’র মতো সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক ও গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে বেশি দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে চরিত্রনির্ভর সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করেন নয়নতারা। এমন বেশ কিছু সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, যেগুলোর সাফল্য কোনো পুরুষ সুপারস্টারের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। এর ফলে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় আলাদা অবস্থান তৈরি হয় তার। দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান ‘লেডি সুপারস্টার’ হিসেবে।
বলিউডেও সফল অভিষেক
দক্ষিণী সিনেমায় দীর্ঘদিন সফলভাবে কাজ করার পর ২০২৩ সালে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক করেন নয়নতারা। অ্যাটলি পরিচালিত ‘জাওয়ান’ সিনেমায় শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি হিন্দিভাষী দর্শকদের কাছেও নয়নতারার পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়।
এর মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে সর্বভারতীয় তারকা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন অভিনেত্রী।
ক্যারিয়ারের শুরুতে যেখানে একটি মডেলিং কাজের জন্য নয়নতারার পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ২-৩ হাজার রুপি, দুই দশকের বেশি সময় পর তার অবস্থান এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। মডেলিং থেকে মালয়ালম, তামিল ও তেলুগু সিনেমা হয়ে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
বর্তমানে নতুন তামিল সিনেমা ‘হাই’ নিয়ে ব্যস্ত নয়নতারা। রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন। নবাগত পরিচালক বিষ্ণু এদাভান সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন।
মাত্র কয়েক হাজার রুপির পারিশ্রমিকের একটি মডেলিং কাজ দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটিই আজ নয়নতারাকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় নারী তারকায় পরিণত করেছে।